২০ লাখ টাকা ঘুস নিয়েও জাল পর্চা দেন সেই তহশিলদার

 পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) আবদুস সোবাহানের বিরুদ্ধে জমির বিএস রেকর্ড করে দেওয়ার কথা বলে ২০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২৬ একর জমির রেকর্ড সংশোধনের জন্য তিনি প্রথমে ২৬ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে ২০ লাখ টাকায় বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। কয়েক ধাপে টাকা দেওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত তিনি জাল পর্চা তৈরি করে দেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

এ ছাড়া জমির নামজারি করে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সরকারি নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একটি জমির নামজারির সরকারি ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা হলেও আবদুস সোবাহান হাজার হাজার টাকা ঘুস নিয়েছেন বলে অভিযোগ। ঘুস গ্রহণের একাধিক ভিডিও প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে সংবাদমাধ্যম যুগান্তর।

ভুক্তভোগী মহিউদ্দিন খন্দকার জানান, গত ২০ মে তার জমির কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দুটি দলিল বাদ দিয়ে চারটি দলিলের আওতায় থাকা ২ একর ৪২ শতাংশ জমির নামজারির জন্য প্রথমে ৭০ হাজার টাকা দাবি করেন তহশিলদার আবদুস সোবাহান। পরে দরকষাকষির একপর্যায়ে ২০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। এর মধ্যে অগ্রিম ১০ হাজার টাকা দেওয়া হলে দুই দফায় গুনে গুনে সেই অর্থ নেন সোবাহান। তবে শেষ পর্যন্ত চারটি দলিলের পরিবর্তে মাত্র দুটি দলিলের নামজারি করা হয় বলে অভিযোগ করেন মহিউদ্দিন।

তবে ঘুস নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবদুস সোবাহান। তার দাবি, নামজারি ও দাখিলা বাবদ সব মিলিয়ে তিনি মাত্র ২ হাজার ৬৭০ টাকা নিয়েছেন। তাকে ঘুস লেনদেনের ভিডিও দেখানো হলেও নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসেননি তিনি।

এর আগে আবদুস সোবাহানের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়ার আরও একটি অভিযোগ উঠেছিল। বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের গাব্বুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা আতিকুর রহমান খান জানান, উপজেলার মৌকরণে দায়িত্ব পালনের সময় ২৬ একর জমির বিএস রেকর্ড সংশোধনের কথা বলে তার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নেন সোবাহান। টাকা নেওয়ার পর যে কাগজপত্র দেওয়া হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে সেগুলো জাল বলে প্রমাণিত হয় বলে দাবি করেন আতিকুর।

টাকা ফেরত চাওয়ার পর উল্টো তাদের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি। তবে পুলিশের তদন্তে ওই মামলায় সোবাহানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কিছু প্রমাণ সামনে আসে। তদন্তে নগদ পাঁচ লাখ টাকা এবং ব্যাংকের মাধ্যমে আরও সাড়ে ১২ লাখ টাকা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। পরে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন।

আতিকুরের চাচা জাকির খান বলেন, দূরসম্পর্কের আত্মীয় হওয়ায় তারা সোবাহানকে বিশ্বাস করেছিলেন। ২৬ একর জমির বিএস রেকর্ড করে দেওয়ার জন্য প্রথমে ২৬ লাখ টাকা চাওয়া হলেও পরে ২০ লাখ টাকায় রাজি হন তারা। ধাপে ধাপে পুরো অর্থ পরিশোধ করা হয়। কিন্তু কাজের বদলে শেষ পর্যন্ত জাল পর্চা দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর আতিকুরের বাবা আফজাল খান অসুস্থ হয়ে মারা যান বলেও জানান জাকির। তিনি টাকা ফেরত এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

তবে এ অভিযোগও অস্বীকার করেছেন আবদুস সোবাহান। তার বক্তব্য, ওই টাকা কোনো কাজ করে দেওয়ার বিনিময়ে নেওয়া হয়নি; এটি তার শ্বশুরবাড়ির দলিলসংক্রান্ত পারিবারিক লেনদেনের অংশ।

এদিকে গত ৮ মার্চ রাঙ্গাবালী উপজেলায় যোগ দেওয়ার পর থেকে আবদুস সোবাহানকে কোনো দায়িত্বে রাখা হয়নি। তার প্রশাসনিক আইডিও নিষ্ক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে।

রাঙ্গাবালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল হাসান বলেন, আবদুস সোবাহানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

Check Also

আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করাটা ভুল ছিল: ইসরাইলি নেতা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরান যুদ্ধের শুরুতে দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করার …

Premium SEO Backlinks
Premium SEO Backlinks