জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সার্ভারের তথ্য অনৈতিকভাবে সংশোধন, স্থানান্তরের জন্য ইউজার আইডি, পাসওয়ার্ড এবং ওটিপি দেওয়া হতো একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে। আর এজন্য প্রতিদিন মিলত পাঁচ হাজার টাকা।
হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের ওই চক্রটি আবার তা সরবরাহ করত বিভিন্ন কম্পিউটার কম্পোজের দোকানে। আর এভাবেই চলত রমরমা ব্যবসা।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি ঘটেছে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে। আর এই কাজটি চলছিল অফিস সহকারী রনি গাইন-এর আইডি থেকে।
কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (সিএমএস) তার ইউজার আইডি থেকে মোট ৩৭টি এনআইডি সংশোধন ও স্থানান্তরের হদিস মিললে বিভাগী মামলা দেওয়া হয়। তদন্ত, শুনানি নথি পর্যালোচনায় তথ্য মেলে রনি গাইন তার ইউজার আইডি, পাসওয়ার্ড এবং ওটিপি ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের সঙ্গে ‘সরল বিশ্বাসে’ শেয়ার করেন।
আর এখানে ঘটে বিপত্তি।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, খুব বেশি দিন ফাঁকি দিতে পারেনি চক্রটি। সংশ্লিষ্ট ইউজার আইডিধারীকে জিজ্ঞাসাবাদে আনলে ওঠে আসে পুরো চিত্র।
ইসির যুগ্ম সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) ডিএম আতিকুর রহমানে সই করা বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তির আদেশে জানা যায়, এনআইডি সার্ভারের গোপনীয়তা রক্ষা করতে না পারায় রনি গাইনকে এক বছরের জন্য বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ইসির আদেশে বলা হয়েছে, রনি গাইনের ব্যবহৃত সিএমএস ইউজার আইডি থেকে বিধিবহির্ভূতভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন ও স্থানান্তরের কয়েকটি আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। একইসঙ্গে তার ইউজার আইডি, পাসওয়ার্ড ও ওটিপি অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে শেয়ার করার অভিযোগ ওঠে। এর মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের গোপনীয়তা বিনষ্ট হয়।
তদন্তে উঠে আসে, রনি গাইন তার সিএমএস ইউজার আইডি ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন ও স্থানান্তরের ৩৭টি আবেদন প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা করেন। এ ছাড়া কুকি এডিটরের মাধ্যমে সিএমএসের সেশন আইডি একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সরবরাহ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, মোংলার কয়েকটি কম্পিউটার দোকানের ব্যক্তিদের সেশন আইডি সরবরাহ করা হয়। তারা ওই আইডি ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশনের সিএমএস সফটওয়্যারে লগইন করে বিভিন্ন ভোটারের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করতেন।
ইসির আদেশে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর রনি গাইনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তাকে অভিযোগনামার লিখিত জবাব দেওয়ার এবং ব্যক্তিগত শুনানিতেও অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। শুনানিতে তিনি কিছু ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আর হবে না বলে অঙ্গীকার করেন।
