এক সপ্তাহের মধ্যে বঙ্গভবন ছাড়ছেন রাষ্ট্রপতি?

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন বলে আল-জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামি তথ্য দিয়েছেন। এরপরই দেশের রাজনীতিসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

যদিও বিষয়টি নিয়ে সরকার বা বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখানো হলেও দূরত্ব আর আস্থার সংকটে পদত্যাগের পথে হাঁটতে হচ্ছে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে। এক সপ্তাহের মধ্যেই তার বিদায়ের সম্ভাবনা প্রবল। সে হিসেবে চলতি মাসেই তিনি বঙ্গভবন ছাড়তে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের লেখেন, ‘আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। এর চাইতেও বিষ্ময়কর খবর হলো, নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির কোন শীর্ষ নেতার পরিবর্তে পছন্দের তালিকায় রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

যদিও এর আগে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খানসহ বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় ছিল। তবে তাদের মধ্যে একজন বিষয়টি নিয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন। এখন মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার সাময়িকভাবে এ দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবে।

জানা গেছে, স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যেতে চান মো. সাহাবুদ্দিন। এর আগে সেখানে বাইপাস সার্জারিসহ হৃদরোগের চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তবে এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও বক্তব্য কেউ দেয়নি। তার চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে কিনা, সেটিও নিশ্চিত নয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন আন্দোলনে যুক্ত ছাত্র-জনতা। বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনও হয়েছে। তবে তখন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাকে সরিয়ে দিলে বা তিনি ইস্তফা দিলে সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হবে। এখন নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে শক্তিশালী সংসদ কার্যকর থাকায় সে সম্ভাবনা আর নেই। ফলে তার বঙ্গভবন ত্যাগের আলাপ সামনে এসেছে।

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের আভাস দিয়েছেন এবং সাতদিনের মধ্যে বিষয়টি দৃশ্যমান হতে পারে। আওয়ামী লীগের আমলে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির পদে শপথ নেন তিনি। এরপর তিন বছর তিন মাস দায়িত্ব পালন করেছেন। সংবিধানের অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হয়।