ভারতের নাগপুরে বাসাভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে ভাড়া নেওয়া একটি ঘরের ভেতর থেকে প্রায় ৩৭ লাখ টাকার সমমানের ৫০০ টাকার জাল নোট ছাপানোর ঘটনা সামনে এসেছে। বেশ কিছুদিন ধরে ভাড়াটিয়া অনুপস্থিত থাকায় বাড়ির মালিক দরজার তালা ভাঙলে এই জালিয়াতি চক্রের বিষয়টি উন্মোচিত হয়।ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের ভেতর থেকে প্রচুর পরিমাণ জাল নোটের বান্ডিল, একটি প্রিন্টার এবং নোট ছাপানোর সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে ওয়াতোড়া থানা পুলিশ। এছাড়া পুলিশ আংশিক ছাপা হওয়া নোটসহ প্রায় ৪৮ লাখ রুপি (৬২ লাখ বাংলাদেশি টাকা) সমমানের মালামাল ও জাল নোটও জব্দ করেছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নাগপুরের ত্রিমূর্তি নগরের বাসিন্দা পুষ্পক কৃষ্ণ ভাণ্ডারকর (ওরফে বেনদানে) হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পুষ্পক প্রায় দেড় বছর আগে খাড়বি এলাকায় ওই ঘরটি ভাড়া নিয়েছিলেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তার বাড়িভাড়ার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং তিনি গত কয়েক মাস ধরে ভাড়া দেওয়া বন্ধ রেখেছিলেন।
বাড়ির মালিক রমেশ তাকে ঘর ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে পুষ্পক তাকে ছুরি দেখিয়ে হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে রমেশ ওয়াতোড়া থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
ভাড়াটিয়া দীর্ঘদিন ধরে ঘরে না আসায় অবশেষে শনিবার বাড়ির মালিক হাতুড়ি দিয়ে ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ভেতরে ঢুকে তিনি একটি বালতির মধ্যে নোটের বান্ডিল, ঘরজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছাঁচ কাগজ এবং একটি প্রিন্টার দেখতে পান।
এসব দেখে আতঙ্কিত হয়ে বাড়ির মালিক রমেশ পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রচুর ৫০০ রুপির জাল নোটের বান্ডিল দেখতে পায়। এগুলো একটি নোট গণনাকারী মেশিনও আনা হয় ঘটনাস্থলে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রায় ৩৭ লাখ রুপি (৪৮ লাখ বাংলাদেশি টাকা) সমমানের জাল নোট ছাপিয়েছিলেন।
তদন্তকারীরা এক পিঠ ছাপা এবং অন্য পিঠ ফাঁকা থাকা আংশিক তৈরি জাল নোট ও ছাপানোর সরঞ্জামও উদ্ধার করেছেন। উদ্ধারকৃত মোট নোট এবং সরঞ্জামের আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৪৮ লাখ রুপি (৬২ লাখ বাংলাদেশি টাকা)।
সূত্র: এনডিটিভি
চাকরির বাজার Jobs and Career Solution