যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় দুই দফা বিষাক্ত ইনজেকশন দেওয়ার পরও ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যু হয়নি। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ক্রিস্টা পাইকের আইনজীবীরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ক্রিস্টার আইনজীবীরা পরে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ ঘটনা সাংবিধানিক অধিকারের মারাত্মক লঙ্ঘন।
টেনিসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন ক্রিস্টা পাইক বেঁচে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে এক বিবৃতিতে জানায়, আমাদের নির্ধারিত প্রোটোকলে ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিকটি বরাবরই কার্যকর। প্রক্রিয়ার বাইরে অতিরিক্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আমাদের প্রোটোকলে নেই।
বিবৃতিতে বলা হয়, ক্রিস্টা পাইককে কারাগারের বাইরের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা জানান, মারাত্মক শক্তিশালী পেন্টোবারবিটাল ওষুধের দুটি ডোজ দেওয়ার ৪০ মিনিট পরও তারা ক্রিস্টাকে নাক ডাকতে শোনেন।
১৯৯৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে এক সহপাঠীকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে ৩০ বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন ক্রিস্টা পাইক। তার বয়স এখন ৫০ বছর। স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ১০টায় তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এটি কার্যকর হলে ২০০ বছরের মধ্যে টেনেসিতে প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতো।
এর আগে নির্ধারিত সময়ের মাত্র এক ঘণ্টা আগে এক আপিল আদালত তার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করলেও কয়েক ঘণ্টা পরই মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সেই নির্দেশ বাতিল করে দেন।
বিষাক্ত ইনজেকশনের পর ক্রিস্টা চরম শারীরিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ক্রিস্টার আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, নিষ্ঠুর শাস্তি এড়াতে প্রত্যেক নাগরিকের যে অধিকার রয়েছে, ক্রিস্টার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র সেটি হরণ করছে। এই যুক্তিতে তার আইনজীবীরা আবারও সুপ্রিম কোর্টে ক্রিস্টার মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের জরুরি আবেদন করেছেন।
ক্রিষ্টার মৃত্যুদণ্ড পর্যবেক্ষণ কক্ষে উপস্থিত সাতজন সাংবাদিক। তাদের একজন জানান, ইনজেকশন দেওয়ার পরও ক্রিস্টা পাইক স্পষ্টতই বেঁচে ছিলেন, তার নাক ডাকছিল। পরে কারা কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের ওই কক্ষ থেকে বের করে দেয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনুসন্ধানী সাংবাদিক জন নর্থ বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি যেভাবে হওয়ার কথা ছিল সেভাবে হয়নি। আমরা যখন ওই কক্ষ থেকে বের হয়ে আসি তখনও ক্রিস্টা জীবিত ছিলেন।
এর আগে ক্রিস্টা পাইকের শৈশবের যৌন নির্যাতনের বিষয়গুলো তার সাজা নির্ধারণের সময় সঠিকভাবে বিবেচনা করা হয়েছে কিনা—তা খতিয়ে দেখতে আপিল আদালত ২-১ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করে। তবে তারও আগে টেনেসির গভর্নর ও সুপ্রিম কোর্ট তার প্রাণভিক্ষার আবেদন বাতিল করে দেয়।
আপিল আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে দ্রুতই সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন টেনেসির অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি অভিযোগ করেন, ক্রিস্টা পাইকের আইনজীবীরা শেষ মুহূর্তে আদালতকে বিভ্রান্ত করে সময়ক্ষেপণ করছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে নক্সভিল জব কর্পসে পড়ার সময় ১৮ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইক ও তার ১৭ বছর বয়সী প্রেমিক মিলে সহপাঠী কলিন স্লেমোরকে হত্যা করেন। সেই সময় ঘটনাটি আমেরিকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করে।
চাকরির বাজার Jobs and Career Solution