সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের দেড় মাস পরও রাজধানীর ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় তাদের ফেসবুক আইডি লগইন করা হয়। এই সময়ে সাগর-রুনির ফেসবুক আইডি সক্রিয় থাকার বিষয়ে গুগল ও ইয়াহুর কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রসিকিউটর তানভীর জোহা চ্যানেল 24 কে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আমরা দু’টি ই-মেইল এড্রেস পেয়েছি, একটি সাংবাদিক সাগর সরওয়ার ও অন্যটি মেহেরুন রুনির। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে আমরা ইয়াহু ও জিমেইল কর্তৃপক্ষের (গুগল) কাছে এই দুই ই-মেইলের বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছি। তারা আর্কাইভ থেকে এ বিষয়ে তথ্য জানাতে আদালতের আদেশ চেয়েছে।
প্রসিকিউটর তানভীর জোহা বলেন, আমরা তদন্ত করে পেয়েছি সাগর-রুনির ব্যবহৃত ই-মেইল ও ফেসবুক আইডির কিছু লগইন হিস্ট্রি ডার্ক ওয়েবে আছে। সেই লগইন হিস্ট্রি থেকে একটি বিষয় খুবই স্পষ্ট যে— হত্যাকাণ্ডের এক থেকে দেড় মাস পরও তাদের আইডি লগইন ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা মেহরুন রুনির ভাইয়ের সঙ্গেও কথা বলেছি, তিনিও আইডিগুলো অ্যাক্টিভ দেখতে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রসিকিউটর তানভীর জোহা। ছবি: চ্যানেল 24
প্রসিকিউটর তানভীর জোহা আরও বলেন, সাধারণত চুরির বিষয় হলে ডিভাইস বিক্রি করে দেয়া হয়, রিসেট-ফ্ল্যাশ করা হয়। যেখানে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটেছে, এমন জায়গায় চুরি করে পাসওয়ার্ড প্রোটেক্টেড একটি ল্যাপটপকে বাইপাস করে তাদের আইডি সক্রিয় করার মতো অদ্ভুত বিষয়ে অপরপক্ষের বক্তব্যের কোনো যৌক্তিকতা নেই। মেটা কর্তৃপক্ষের নতুন নিয়ম অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা হত্যাকাণ্ডের পর কোন কোন আইপি থেকে কে বা কারা এই লগইনগুলো করেছে— সেই বিষয়ে ডিজিটাল একটি ফুটপ্রিন্টের মাধ্যমে ধূম্যজালের রহস্য উন্মোচন করতে চাই।
এর আগে বুধবার সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা না দেয়ায় প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন করে আগামী ৫ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত। এর মধ্যদিয়ে আলোচিত এই হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ ১৩০তম বারের মতো পেছাল।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের একটি ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। ওই সময় সাগর সরওয়ার মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়া তার স্ত্রী মেহেরুন রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। প্রথমে পুলিশ আলোচিত এ মামলার তদন্ত শুরু করলেও পরে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি)। পরবর্তী সময়ে মামলাটির তদন্তভার পায় র্যাব (বর্তমানে এসআরবি)।
ঘটনার এক যুগ পর এই হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেয়া হয়। এরপর গত বছরের নভেম্বরে র্যাবের কাছ থেকে মামলাসংক্রান্ত নথিপত্র বুঝে নেয় পিবিআই।
চাকরির বাজার Jobs and Career Solution