রাতের আঁধারে মুখোশধারীদের হামলায় রাজধানীর মিরপুর-১-এর মিরপুর-১-এর বেসরকারি সংস্থা রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংস্থাটি ৫০ বছর ধরে দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও শিশুদের টিকাদান সেবা দিয়ে আসছে।
সংস্থাটির অভিযোগ, নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবন ভাঙচুর ও লুটপাটের পর দোকানদার সমিতির সাইনবোর্ডও টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রায় ২৫০ জনের মুখোশ পরা একটি দল ‘সম্মাননা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’র ব্যানারে ক্লিনিকে হামলা চালায়। তারা কর্তব্যরত দুজন নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। পরে ক্লিনিকের দখল নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষকে সেখানে প্রবেশে বাধা দেয়।
ডা. নাসরিনের দাবি, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকা, টিকা দেওয়ার রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন সরঞ্জাম ও পদ্ধতি, ওষুধ ও ভ্যাকসিন, নগদ প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন নিয়ে গেছে।
এছাড়া একটি জেনারেটর, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, তিনটি স্টিলের আলমারি, পাঁচটি স্টিলের ফাইল কেবিনেট, ল্যাবরেটরির সরঞ্জাম ও রিএজেন্ট, দুটি টিভি, দুটি কম্পিউটার, দুটি ল্যাপটপ, দুটি প্রিন্টার এবং বিভিন্ন আসবাবপত্রও লুটের অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ কেন্দ্রটির স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। পরে সেখানে ‘সম্মাননা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’র একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়।
ডা. নাসরিন বলেন, শুধু যন্ত্রপাতি ও মালামালের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণই আনুমানিক দেড় কোটি টাকা। রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে প্রায় ৫০ বছর ধরে মিরপুর এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও শিশুদের টিকাদান সেবা দিয়ে আসছে।
তিনি বলেন, আগামীকাল থেকে সরকারি হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার কথা ছিল। কেন্দ্রটি দখল ও ভাঙচুরের কারণে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
ঘটনার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলেও জানান প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা নয়, দেশের দরিদ্র, শিশু ও অসহায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবার অধিকারের ওপরও আঘাত।
ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রটির সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিয়ে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালুর দাবি জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় মামলা হয়েছে।
শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মামলায় হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি এবং দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
চাকরির বাজার Jobs and Career Solution