পাহাড়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হলেন এক নববধূ। দার্জিলিংয়ের সিটংয়ের একটি হোমস্টেতে বারবিকিউ করার সময় আগুনে পুড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্তমানে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন রয়েছেন নিকিতা দাস নামের ওই তরুণী। এই ঘটনায় হোমস্টে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। দুর্ঘটনার মুহূর্তের সিসিটিভি ফুটেজও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তর দিনাজপুর জেলার বাসিন্দা সৌভিক ও নিকিতার বিয়ে হয়েছিল প্রায় দু’মাস আগে। বিয়ের পর মধুচন্দ্রিমার উদ্দেশ্যে তারা সিটংয়ের একটি হোমস্টেতে ওঠেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে হোমস্টে প্রাঙ্গণে একটি বারবিকিউর আয়োজন করা হয়েছিল।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, নবদম্পতি বারবিকিউ উনুনের পাশেই বসে ছিলেন। ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে এক ব্যক্তি আগুনের কাছে এগিয়ে আসেন এবং একটি ক্যান থেকে তরল পদার্থ আগুনে ঢালতে শুরু করেন। সঙ্গে সঙ্গেই আগুনের লেলিহান শিখা বিকটভাবে জ্বলে ওঠে এবং সরাসরি গিয়ে পড়ে নিকিতার গায়ে।
মুহূর্তের মধ্যে নিকিতার শরীরে আগুন ধরে যায় এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তেই সৌভিক স্ত্রীকে বাঁচাতে ছুটে যান। অন্য ব্যক্তিটিও নিজের টি-শার্ট খুলে দ্রুত আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।
পরিবারের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর হোমস্টে কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় কোনো সাহায্য করা হয়নি। জরুরি চিকিৎসা এবং উদ্ধারকাজে তাদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পরিবার। তবে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে হোমস্টে কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো মেলেনি।
আগুনে নিকিতার শরীরের একাধিক অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে গেছে। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত শিলিগুড়ির নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে তিনি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। বারবিকিউ চলাকালীন পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থা ছিল কি না এবং হোমস্টে কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
সূত্র: এনডিটিভি
