বাড়তি নম্বর দেয়ার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের কুপ্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতের দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন। চলতি বছরের মে মাসে অভিযোগ জমা পড়ার পর বিষয়টি তদন্ত করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি (আইসিসি)।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, চলতি বছরের মে মাসে যৌন হয়রানির এসব অভিযোগ জমা পড়ার পর আইসিসি তদন্ত শুরু করে। এ ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ডেকে তাদের বক্তব্যও নেয়া হয়েছে। এরপর শিক্ষার্থীরা প্রায় ৪৫ দিনের সেমিস্টার ছুটিতে চলে যান। জুলাইয়ের মাঝামাঝি ক্লাস শুরু হলে আবারও অভিযোগটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভার সময় ওই অধ্যাপক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কিছু আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এরপর মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এক শিক্ষার্থী বিষয়টি নিয়ে সহপাঠীদের একটি অনানুষ্ঠানিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। পরে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে সামনে আসেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র হিন্দুস্তান টাইমসকে জানায়, অধ্যাপক এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে শিক্ষার্থীরা তার যৌন প্রস্তাবে রাজি হলে তিনি তাদের বাড়তি নম্বর দেবেন। এরপর মে মাসের শেষ দিকে আইসিসিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগের বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী কমিটির কাছে নিজেদের বক্তব্যও দেন।
ভারতের দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। জেএনইউতে এর আগেও এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী পরিষদ চারজন কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে ওই চারজনকে বরখাস্ত করা হয়। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন শিক্ষক। বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল।
যৌন হয়রানির অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া ওই শিক্ষক ছিলেন জেএনইউর স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক স্বরণ সিং। জাপান দূতাবাসের এক কর্মকর্তাকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। ওই জাপানি কর্মকর্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সঙ্গে বিভিন্ন একাডেমিক অনুষ্ঠানের সমন্বয় করতেন বলে জানা গেছে। স্বরণ সিংয়ের সঙ্গে সর্বশেষ বৈঠকের পর তিনি তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন।
বিষয়টি সম্পর্কে জানেন—এমন এক কর্মকর্তা তখন হিন্দুস্তান টাইমসকে জানিয়েছিলেন, স্বরণ সিংয়ের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের মে মাসে। এরপর আইসিসি বিস্তারিত তদন্ত করে। তদন্তের সময় অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত—দুই পক্ষকেই নিজেদের বক্তব্য ও প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ দেয়া হয়।
তদন্তে স্বরণ সিংয়ের বিরুদ্ধে অডিও রেকর্ডিংসহ পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়ার পর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
