আলোচিত চিকিৎসক ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে অপচিকিৎসা এবং অননুমোদিত সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালকের কাছে দেওয়া আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এক রোগীকে প্রচলিত চিকিৎসা ও ইনসুলিন বন্ধ করে ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ এবং উচ্চমূল্যের কিছু অননুমোদিত সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পরে ওই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনি মারা যান।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ৩৬ বছর বয়সী ওই নারী প্রায় নয় বছর ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ইনসুলিন ব্যবহার করতেন। অনলাইনের মাধ্যমে ‘Health Revolution Ltd.’-এর সঙ্গে যোগাযোগের পর তার ইনসুলিন ও অন্যান্য ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি শর্করা বাদ দিয়ে উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবারের একটি তালিকা অনুসরণের পরামর্শ এবং কয়েকটি উচ্চমূল্যের সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয় বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই পরামর্শ অনুসরণ করে রোগী ইনসুলিন বন্ধ করার পর তার ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তিনি গুরুতর ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসে (Diabetic Ketoacidosis—DKA) আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে দেওয়া আবেদনে দাবি করেন, ওই রোগী ‘অপচিকিৎসার শিকার’ হয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণ হারিয়েছেন। এ ধরনের চিকিৎসা ও অননুমোদিত সাপ্লিমেন্টের ব্যবহার বন্ধে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও অনুরোধ জানান তিনি।
আবেদনের সঙ্গে রোগীর বিভিন্ন ল্যাব রিপোর্ট, চিকিৎসা-সংক্রান্ত সনদ এবং ব্যবহৃত কথিত অননুমোদিত সাপ্লিমেন্টের ছবিও সংযুক্ত করা হয়েছে।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে ডা. জাহাঙ্গীর কবির বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়ার পরই বিষয়টির প্রকৃত চিত্র ও দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
চাকরির বাজার Jobs and Career Solution