‘আমার ছেলে ঠান্ডা সহ্য করতে পারে না। সে নিচে শুয়ে আছে, তার তো ঠান্ডা লাগবে। এত তাড়াতাড়ি কেন ঘুমিয়ে পড়লি বাবা, তুই তো রাত ৩টার আগে ঘুমাস না!’–ফেনীর মিদ্দাবাড়ি সড়কে নিজ বাড়ির মেঝেতে পড়ে থাকা চুয়েট শিক্ষার্থী অর্ণব সাহার (২২) মরদেহের পাশে বসে এভাবেই বুক চাপড়ে বিলাপ করছিলেন মা নেলি সাহা।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল-সংলগ্ন পুকুরে ডুবে অর্ণবের মৃত্যু হয়। রাত পৌনে ২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ ফেনীর বাসায় পৌঁছালে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। মা আক্ষেপ করে বলতে থাকেন, ‘তুই তো সাঁতার জানতি না, কেন পুকুরে নামলিরে বাপ! আমার ছেলেটা জীবনে কিছুই পেল না।’
শিক্ষক প্রবীর রঞ্জন সাহার ছোট ছেলে অর্ণব চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের (সপ্তম সেমিস্টার) অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত টিউশনি করে নিজের খরচ চালাতেন। প্রতিদিনের মতো টিউশনি শেষে সন্ধ্যায় হলে ফিরে রুম বন্ধ পেয়ে পুকুরে গোসল করতে নামেন। সাঁতার না জানায় এবং বেশ কিছুক্ষণ পানির নিচে থাকায় তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। অর্ণবের সহপাঠীরা মৃত্যুর সময় ঘাটে উপস্থিত অন্যদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বুধবার সকালে শত শত সহপাঠী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে ফেনী পৌর মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক রাজেশ দেব বলেন, অর্ণবকে অচেতন অবস্থায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সিপিআর (জরুরি জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা পদ্ধতি) দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বেঁচে থাকার কোনো লক্ষণ খুঁজে পাইনি। বেশ কিছুক্ষণ পানির নিচে ছিল। তাই আগেই মারা গেছে।
বোনকে বাঁচাতে গিয়ে ডোবায় তলিয়ে গেল ভাই
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় পানিতে ডুবে একই পরিবারের দুই শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামের পুরানবাড়িতে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলো– ওই গ্রামের মোহাম্মদ রুবেল মিয়ার চার বছর বয়সী ছেলে রিবান ও দেড় বছর বয়সী মেয়ে শাফা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বাড়ির উঠানে খেলার সময় ছোট বোন শাফা অসাবধানতাবশত পাশের একটি ডোবায় পড়ে যায়। তা দেখে চার বছরের বড় ভাই রিবান তাকে বাঁচাতে সঙ্গে সঙ্গে পানিতে ঝাঁপ দেয়। কিন্তু সাঁতার না জানায় দুজনেই পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্বজনরা ভাসমান অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করা হয়। দুই অবুঝ সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা বাবা-মায়ের আর্তনাদে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
