নারী ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের ঘটনায় খুবির প্রশাসনিক ভবনে তালা, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিজয় ’২৪ হলের নারী ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে এক ক্যান্টিনকর্মীকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিচার, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তারা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বরে সুষ্ঠু বিচার ও নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে সমাবেশের ঘোষণা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এর আগে বুধবার রাত থেকেই তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার বিজয় ’২৪ হলের নারী ওয়াশরুমে একটি সন্দেহজনক মোবাইল ফোন দেখতে পান কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী। পরে বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গিয়ে তারা হলের ক্যান্টিনে কর্মরত ইমাম হাসান (২৪) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন। পরবর্তীতে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। অভিযুক্ত ইমাম হাসান হলের ক্যান্টিন পরিচালকের ছেলে এবং প্রায় দুই বছর ধরে ওই ক্যান্টিনে কর্মরত ছিলেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঘটনার পরপরই কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়ায় ক্যাম্পাসে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, অতীতেও যৌন হয়রানির একাধিক অভিযোগের সুষ্ঠু ও দৃশ্যমান নিষ্পত্তি হয়নি। এ কারণে নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিত এবং যৌন হয়রানির ঘটনায় ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি বাস্তবায়নের দাবিতে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।

এদিকে বিজয় ’২৪ হলের প্রোভোস্ট অধ্যাপক ড. সেলিনা খাতুন বলেন, ‘হলের ক্যান্টিন পরিচালনাকারী গোপনে ওয়াশরুমের ভেন্টিলেশন দিয়ে মোবাইল ধরে ভিডিও করার সময় শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে। খবর পেয়ে আমরা পুলিশকে ডেকে তাকে তাদের কাছে সোপর্দ করি। আলামত হিসেবে মোবাইল ফোনটি সিলগালা করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

তিনি জানান, ঘটনার পরপরই অভিযুক্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি হলের কর্মচারীদের হলের ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

টেলিগ্রামে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রোভোস্ট বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ-সংক্রান্ত কোনো প্রমাণ থাকলে তা তদন্ত কমিটির কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুনর রশীদ খান বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

একই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযুক্তকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

প্রসঙ্গত, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।