মেলানিয়ার মতোই নাটালি আমাকে ভালোবাসে : ট্রাম্প

ক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন? এমন প্রশ্নে মেলানিয়া ট্রাম্প আর সন্তানদের নাম তো আসবেই। কিন্তু ট্রাম্পের মতে এই তালিকায় যোগ করতে হবে আরও একজনকে। তিনি ৩৫ বছর বয়সী তরুণী নাটালি হার্প! ডেমোক্রেটিক সেনেটরের রসিকতার পর থেকেই ট্রাম্পের ‘ছায়াসঙ্গী’ ও হোয়াইট হাউসের এই সহকারীকে নিয়ে হঠাৎ করেই সরগরম ওয়াশিংটনের রাজনীতি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে জানা যায়, ট্রাম্প নাকি একবার স্টাফদের বলেই বসেছিলেন, নাটালি তাকে মেলানিয়া ও সন্তানদের মতোই ভালোবাসেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘তোমরা সবাই এক দিন চলে যাবে, টাকা কামাবে। কিন্তু সে আমাকে কখনও ছেড়ে যাবে না।’

বিতর্কের সূচনা গত ১৬ আগস্ট। ডেমোক্রেটিক সেনেটর জন অসফ এক জনসভায় খোঁচা মেরে বলেন, ট্রাম্প নাকি বলরুম তৈরি করতে চান এবং নাটালিকে সঙ্গে নিয়ে কাতারের দেওয়া বিলাসবহুল বিমানে ঘুরে বেড়াতে চান! ব্যস, আর যায় কোথায়! খেপে উঠেন ট্রাম্পের সমর্থক ও রিপাবলিকানরা। এক হোয়াইট হাউস মুখপাত্র তো অসফকে ব্যক্তিগত আক্রমণ পর্যন্ত করে বসেন।

নাটালিকে নিয়ে এমন চর্চার কারণও অবশ্য কম নয়। একসময় ক্যানসারে আক্রান্ত নাটালি দাবি করেছিলেন, ২০১৮ সালে ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত একটি আইনের ফলে তিনি তার হাড়ের ক্যান্সার নিরাময়ের জন্য পরীক্ষামূলক চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছেন।এরপর থেকে ট্রাম্পের প্রতি তার ভক্তি আকাশচুম্বী! ২০২২ সালের নির্বাচনি প্রচারণায় তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে পোর্টেবল প্রিন্টার নিয়ে ঘুরতেন, যাতে ট্রাম্পকে পত্রিকার খবরের পাতা সঙ্গে সঙ্গেই প্রিন্ট করে দেওয়া যায়। এ জন্য তার নামই হয়ে যায় ‘দ্য হিউম্যান প্রিন্টার’।

ট্রাম্প গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে আসার পর ন্যাটালি তার নির্বাহী সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের পোস্ট ড্রাফট করা থেকে শুরু করে ওভাল অফিসের কাজ- সবখানেই তার নিত্য উপস্থিতি।

সম্প্রতি কিছু প্রতিবেদনে ট্রাম্পকে লেখা নাটালির একগুচ্ছ চিঠির কথা উঠে এসেছে। যার একটিতে লেখা ছিল- ‘আমার কাছে আপনিই সব।’

নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের লেখা ‘রিজিম চেঞ্জ’ বইয়ে এই চিঠিগুলোর কথা প্রথম প্রকাশিত হয়। বইটি গত জুনে বাজারে আসে। বইটি থেকে জানা যায়, ট্রাম্প নাকি কর্মীদের বলেছিলেন, নাটালি হার্পই একমাত্র ব্যক্তি যিনি ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মতোই তাকে ভালোবাসেন।

রিজিম চেঞ্জ বইয়ের তথ্যমতে, ট্রাম্প যখন হোয়াইট হাউসের সাজসজ্জার নতুন রূপ নিয়ে কর্মচারীদের জিজ্ঞেস করতেন, তখন ন্যাটালি উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করতেন।

এদিকে ‘এমএস নাওয়ের’ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাটালি হার্প প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও প্রধান কার্যালয়ে (ওয়েস্ট উইং) কর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় সাধারণ নিরাপত্তা যাচাই বা ‘সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স’ ছাড়াই হোয়াইট হাউসে কাজ করেছেন। অজ্ঞাত কারণে তিনি একাধিকবার এই নিরাপত্তা যাচাই পরীক্ষা এড়িয়ে গিয়েছিলেন।

সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্সের আওতায় পূর্ববর্তী আবাসন, আর্থিক ইতিহাস ও বিদেশি যোগাযোগের মতো স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে নাটালি সম্প্রতি আবেদন করে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স গ্রহণ করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় নিরাপত্তার এক কর্মকর্তা এমএস নাওকে বলেছেন, প্রেসিডেন্টের এত কাছাকাছি অবস্থান করার কারণে নাটালি যে ধরনের স্পর্শকাতর তথ্য ও নথিপত্র দেখার সুযোগ পাচ্ছেন, তা হোয়াইট হাউসের প্রায় যেকোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার চেয়েও বেশি। এটি উদ্বেগের বিষয়।

তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লিভিট এমএস নাওকে বলেন, নাটালি হার্পের বাকি সবার মতোই সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স রয়েছে। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের টিমের একজন অনুগত ও কঠোর পরিশ্রমী সদস্য।

এদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে নাটালির সম্পর্কের খবর তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করে থাকতে পারে। হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘সেমাফরক‘ জানিয়েছে, ফার্স্ট লেডি এই ধরনের বিষয়গুলো পছন্দ করেন না।

অন্যদিকে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাটালির ভাই প্রেস্টন হার্প প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার বোনের এই সম্পর্ককে ‘এক ধরনের অসুস্থ আসক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রেস্টন হার্প জানান, তার বোন এর আগে অন্যান্য প্রেসিডেন্টদেরও চিঠি লিখেছিলেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও হোয়াইট হাউসে বোনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবশেষে তার (নাটালি) স্বপ্ন সত্যি হলো।

বিষয়টি নিয়ে দ্য টেলিগ্রাফ থেকে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।