পরিচয় গোপন করতে মেরিনাকে হত্যার পর পুড়িয়ে ফেলা হয় মরদেহ: পুলিশ

নওগাঁর ধামইরহাটে গৃহবধূ মেরিনা বেগমকে হত্যার পর পরিচয় গোপন করতে তার মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ধামইরহাটের সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন (৪৯) ও একই এলাকার মোজাম্মেলের ছেলে তারেক (২১)। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় ধামইরহাটের একটি আমবাগান থেকে এক নারীর পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের পাশে পড়ে ছিল ওই নারীর প্রসাধনী সামগ্রী ও জাতীয় পরিচয়পত্র। ঠিক একই সময়ে মেরিনা বেগম নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে তার ছেলে কাউসার আলী ধামইরহাট থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে আসেন। পরে পুলিশ তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গেলে সেখানে পড়ে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র ও মরদেহ দেখে তিনি তার মাকে শনাক্ত করেন।

এরপর ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় তদন্ত ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজন হিসেবে সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন ও তারেক রহমানের নাম আসে। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, দুধ কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে মেরিনা বেগমের সঙ্গে সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেনের পরিচয় ও পরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। তাদের মধ্যে নিয়মিত মোবাইলে যোগাযোগ হতো। একপর্যায়ে মেরিনা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। এমনকি বিয়ে না করলে আত্মহত্যার হুমকিও দেন বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছেন বাবুল।

পুলিশ সুপার আরও জানান, তখন বাবুল মেরিনাকে জানান, ১৬ আগস্ট তাকে বিয়ে করবেন। বিয়ের কথা বিশ্বাস করে মেরিনা নতুন জামা, জুতা, প্রসাধনী সামগ্রী ও জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এদিকে, বিয়ের পরিবর্তে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

পরবর্তীতে ১৬ আগস্ট দুপুরে মেরিনা বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর বাবুলের নির্দেশে তারেকসহ কয়েকজন তাকে নেয়ার জন্য শাহাপুর ইউনিয়নে যায়। সেখান থেকে তাকে অগ্রাদিগুণ বাজারে নিয়ে আসা হয়। পরে রাত ১০টার দিকে তাকে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় করে মনিহারি-তালপুকুর সড়কের পাশে নেয়া হয়। সেখান থেকে প্রায় ৩০০ ফুট দূরে ভলকাডাঙ্গা এলাকার একটি আমবাগানের ভেতরে মেরিনাকে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে বাবুলের নির্দেশে তারেকসহ দুজন তার গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে টান দেন। একপর্যায়ে মেরিনা মারা গেলে তার মরদেহের ওপর খড়কুটো জড়ো করা হয়। পরে বাবুল তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে  আগুন ধরিয়ে দেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, এ হত্যাকাণ্ডে বাবুল ও তারেক ছাড়াও আরও দুজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।