প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় স্বামী, এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি গুড়িয়ে দিলেন দ্বিতীয় স্ত্রী

স্ত্রীকে রেখে দীর্ঘদিন মালয়েশিয়া প্রবাসী রফিউদ্দিন। এরই মধ্যে স্ত্রী পরকীয়ায় মজে এক ইতালি প্রবাসীর সাথে। খবর পেয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন তিনি। বছরখানেক ঘর-সংসার করে আবার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক করে তাকে নিয়ে দিয়েছেন মালয়েশিয়া পাড়ি। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে এক্সক্যাভেটর দিয়ে রফিউদ্দিনের ঘরবাড়ি গুড়িয়ে দিয়েছে দ্বিতীয় স্ত্রীর স্বজনরা।

রোববার (২আগস্ট) চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খেজুরতলা গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ জানায়, আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামের মৃত রোমজান আলির ছেলে রফিউদ্দিন একই গ্রামের সহিদুল ইসলামের মেয়ে ছনিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার কারনে ছনিয়া খাতুন এক ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে অজানার উদ্দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত থানায় সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিস্পত্তি হয়। ছনিয়া খাতুন ইতালি প্রবাসীর কাছে থেকে যান। মালোয়েশিয়া প্রবাসী রফিউদ্দিন বাড়ি এসে একই গ্রামের মুকুল হোসেনের মেয়ে রিমা খাতুনকে বিয়ে করেন।

বিবাহের একবছরের মাথায় রফিউদ্দিন প্রথম স্ত্রী ছনিয়া খাতুনকে পুনরায় বিয়ে করে তাকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। এই ঘটনায় দ্বিতীয় স্ত্রী রিমার খাতুনের স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

রোববার সকাল ১০টা নাগাদ এক্সক্যাভেটর দিয়ে রফিউদ্দিনের বাড়িঘর ভেঙে গুড়িয়ে দেয় তারা। এ সময় ঘরবাড়ি ভাঙার দৃশ্য গ্রামবাসীরা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখতে থাকেন।

এ বিষয়ে গ্রামের মানুষ রফিউদ্দিনের অসামাজিক কার্যকলাপের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে। তারা বলেন, মুকুলের মেয়ে অতিভদ্র, নম্র প্রকৃতির মেয়ে। তার জীবনটা এভাবে রফিউদ্দিন শেষ করে দিয়েছে। তার যথাযথ শাস্তি হওয়া উচিত।

নাগদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বোরহান উদ্দিন মেম্বার বলেন, মুকুল হোসেনের মেয়ে অতিভদ্র ও অমায়িক একটা সভ্য মেয়ে। তার জীবন নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলা উচিত হয়নি। ক্ষোভের কারণে এভাবে ঘরবাড়ি না ভেঙে আইনি পদক্ষেপ নিলে ভালো হতো।

এ ব্যাপারে আলমডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বানী ইসরায়েল বলেন, ঘটনা সম্পর্কে অবগত আছি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।