2

একটি পরকীয়া ১০টি খুনের চেয়ে খারাপ : হাইকোর্ট

একটি পরকীয়া ১০টি খুনের চেয়ে খারাপ বলেও মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। এ ধরনের পরকীয়া যারা করে বা চেষ্টা করে তারা খুনীর মতো অপরাধ করে। হাইকোর্ট কোনোভাবেই এমন অপরাধের প্রশ্রয় দিতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বিচারপতি মো: রহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি মো: আলী রেজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ঢাকার রবিনের সাথে মাগুরার এক ডিভোর্সি নারির সাথে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে পরিচয় হওয়ার পরে প্রথমে কথা-বার্তা ও প্রেমের প্রস্তাব ও বিয়ের প্রলোভনের অভিযোগে শ্লীলতাহানির অভিযোগে করা মামলায় আসামির জামিন শুনানিতে এমন মন্তব্য করেন।

আদালত ওই আসামির জামিন আবেদন খারিজ করে আদেশ দেন। পরকীয়াকে অপরাধ হিসেবে অবিহিত করে আদালত বলেছেন, একটি পরকীয়া ১০টি খুনের চেয়ে খারাপ।

আদালতে আজ জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো: জাকির হায়দার। রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।

ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক জানান, মাগুরা জেলার এক ডিভোর্সি নারির সাথে ঢাকার একজন রবিন আলীর সাথে ফেসবুক হোয়াটম অ্যাপে পরিচয় ও সম্পর্কের পরে তারা একে অপরের ছবি আদান প্রদান করে। ছবির লেনদেনের একপর্যায়ে রবিন ব্ল্যাক মেইল করে নারীকে কু-প্রস্তাব দেয়। কু-প্রস্তাব দেয়ার কারণে এই নারী বিক্ষুব্ধ হয়ে মামলা দায়ের করেন। আজকে সেই রবিন আলীর জামিন আবেদন শুনানি নিয়ে নাকোচ (খারিজ) করে দেন আদালত।

তিনি জানান, শুনানির সময় হাইকোর্ট সামাজিক অবক্ষয়ের কথা স্মরণ করে বেশ কিছু মন্তব্যও করেছেন। আদালত বলেছেন, এ ধরনের পরকীয়া যারা করে তারা অপরাধ করছেন। একটি পরকীয়া ১০টি খুনের সমান অপরাধ বলেও মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্ট কোনোভাবেই এমন অপরাধের প্রশ্রয় দিতে পারে না বলেও জানান তিনি।

গত ১৫ এপ্রিল আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। তখন থেকে করাগারে আছে আসামি। বিচারিক আদালতে জামিন না পেয়ে হাইকোর্টে জামিন চাওয়া হয়। এর আগে গত ৪ এপ্রিল পর্নোগ্রাফি আইনে মাগুরা সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

এজাহার তথ্য মতে, এক বছর আগে ওই নারীর স্বামীর সাথে মনোমালিন্য হওয়ার কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। তার দুটি কন্যা সন্তান আছে। বিবাহ বিচ্ছেদের পর আসামির সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয়। ফেসবুকে পরিচয় হওয়ার পর আসামি বিভিন্ন প্রকার প্রলোভন দিতে থাকে এবং নারীকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

আসামির কথায় বিশ্বাস করে এবং তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়। আসামির সাথে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পর বিভিন্ন সময় তার সাথে হোয়াটসঅ্যাপ সহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও কলে কথা চলতো। আসামি প্রেমের সম্পর্ক হওয়ার কারণে এবং বিবাহ করার প্রতিশ্রুতি দেয়ার কারণে নারীর পরিবারের সদস্যদের কিছু ছবি আসামির কাছে চলে যায়। আসামি নারীকে বিয়ে করার কথা বলে নারীর পরিবারের সদস্যদের সাথে ঝিনাইদহ শহরের একটি রেস্টুরেন্টে দেখা করে।

আসামির সাথে ওই নারী দেখা করার সময় নারীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে ঘাটাঘাটি করে নারীর ফেসবুক আইডি নিয়ে নেয়। তার ছোট ভাই -এর ফেসবুক আইডি সংক্রান্তে আমার ভাই একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করে।

এতে বলা হয়, আসামি নারীর দুর্বলতা ও সরলতা কাজে লাগিয়ে ভিডিও কলে কথা বলার সময় অনুমতি ব্যতীত নারির অশ্লীল স্থির চিত্র/ভিজিও তার মোবাইল ফোনে ধারণ করে এবং স্কিন সর্ট সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে আসামি তার কাছে টাকা দাবি করে এবং তার সাথে বিভিন্ন স্থানে শারীরিক সম্পর্ক করতে হবে বলে। আসামির কথায় রাজি না হলে আসামি রবিন আলী তাকে অশ্লিল স্থির চিত্র/ভিডিও নিজ মোবাইল ফোনে সংরক্ষণসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিতে থাকে।

ঘটনার দিন গত ৯ জানুয়ারি রাত অনুমান ৮টার দিকে নারীর ভাই আসিফ বিন তারিক (১৫) এর ফেসবুক আইডি থেকে ও তার ভাইয়ের স্ত্রীর ছবি এডিট করে অশ্লিল আকৃতি ধারণ করে অশ্লিল নগ্ন ছবি ছাড়তে থাকে ওই সময় তার ভাই তাদের বাড়িতে বসে ফেসবুক আইডি দেখে। তখন থেকে প্রতিদিন তার অশ্লিল নগ্ন ছবি ছাড়তে থাকে।