মুসলিম খেলোয়াড়দের কষ্ট বুঝতে রোজা রাখছেন নারী ইংলিশ কোচ

চলছে মুসলমানদের নিকট অত্যন্ত পবিত্র মাস রমজান। এই মাসে সারা বিশ্বের মুসলমানরা রোজা পালন করে থাকেন। এই মাসেই নাজিল হয়েছিল পবিত্র কুরআন শরিফ। তাই তো মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য রমজান মাস অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ মাস। আর এ সময়ে চলছে দেশটির ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ৯ম আসর।

পাকিস্তানের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই ধর্মভীরু। তারা ইসলামী অনুশাসন মেনে চলতে সিদ্ধহস্ত। খেলার মাঠে ফুরসত পেলেই অনেককে দেখা যায় নামাজ আদায় করে নিতে। এমন কাজ করে বেশ কয়েকবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান।

চলতি রমজানে পাকিস্তানের অধিকাংশ খেলোয়াড় রমজানের রোজা রেখেই মাঠে নেমেছেন। করেছেন অনুশীলনও। রোজা রেখে বেশ কষ্টই হয়েছে তাদের। আর খেলোয়াড়দের এই কষ্ট অনুধাবন করতে রোজা রাখছেন ফ্র্যাঞ্চাইজি দল মুলতান সুলতানসের স্পিন বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করা সাবেক ইংলিশ নারী ক্রিকেটার অ্যালেক্স হার্টলি। খবর ক্রিকেটপাকিস্তান

বিবিসি ৫ লাইভ স্পোর্টকে রোজা রাখার বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করে হার্টলি জানান, টিমের বাকি সদস্যদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে এবং সারাদিন অভুক্ত থেকে মাঠে নামতে কেমন লাগে তা জানতেই রোজা রেখেছি।

তিনি বলেন, এটা রমজান মাস এবং ছেলেরা অভুক্ত থাকছে। তাই আমি ভাবলাম, আমার জানা উচিত, মাঠে খেলতে নেমে তাদের কেমন অনুভূতি হয়। আমার মনে হয়, এটি যৌক্তিক বলেই খেলোয়াড়রা এটা করছে, তাই আমিও তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছি (অভুক্ত থাকছেন)।

সারাদিন রোজা রেখে তার প্রতিদিনের রুটিনে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে হার্টলিকে। রোজা রাখার অনুভূতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে হার্টলি বলেন, এটা অনেক কঠিন। সারাদিন অভুক্ত থেকে আমরা মাত্র আমাদের রোজা ভাঙলাম। আমি কিছু খেজুর ও সালাদ নিয়েছি। আমরা ভোর ৪টা পর্যন্ত খেতে পারি এবং পরেরদিন সন্ধ্যা ৬.৪০ পর্যন্ত আর কিছুই খেতে পারি না। এটা কঠিন, অনেক কঠিন।

তিনি যোগ করেন, আমি ভোর ৪টায় ঘুমাতে যাই এবং দিনভর ঘুমাই, কারণ আমাদের খেলা রাত ৯টায় শুরু হয়।

হার্টলি তার প্রথম অ্যাসাইনম্যান্টেই বেশ সফল বলা চলে। কেননা তার দল মুলতান সুলতানস টুর্নামেন্টের ফাইনালে অবস্থান করছে। আগামীকাল সোমবার (১৮ মার্চ) রাতে শিরোপার লড়াইয়ে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের মুখোমুখি হবে তার দল।