সরকারি উদ্যোগেও কমছে বিয়ের হার, জনসংখ্যা সংকটে উদ্বিগ্ন চীন

চীনে বিয়ের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে দেশটিতে বিয়ের সংখ্যা গত ১৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। বিয়ের হার কমে যাওয়ায় দেশটির জন্মহার আরও হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে জনসংখ্যার ভারসাম্য ও বয়স্ক জনগোষ্ঠীর দায়িত্ব সামলানো নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ চীনে সন্তান জন্মদানের বিষয়টি এখনো বিয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। রয়টার্স

চীনের বেসামরিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে মোট ৪৬ লাখ ৫০ হাজার দম্পতি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। একই সময়ে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে ২০ লাখ ৮০ হাজার দম্পতির। শুক্রবার (০৬ নভেম্বর) স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইয়িকাই  জানিয়েছে, গত ১৮ বছরের মধ্যে প্রথম নয় মাসে বিয়ের এই সংখ্যা সর্বনিম্ন।

বিয়ের সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রবণতা মোকাবিলা এবং সন্তান জন্মদানে মানুষকে উৎসাহিত করতে চীনা সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দিতে ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশু পরিচর্যায় সহায়তা বাড়ানো এবং সন্তান জন্মদানসংক্রান্ত চিকিৎসার ব্যয় কমানোর মতো পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া তরুণদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং পরিবার গঠনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে নগর পরিকল্পনা থেকে শুরু করে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও বিভিন্ন জনসেবামূলক কার্যক্রমে যুব উন্নয়নকে যুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে তরুণদের পাশাপাশি শিশু ও পরিবারগুলোর জন্য শহুরে জীবনকে আরও সহায়ক করে তোলার লক্ষ্য নেয়া হয়েছে।

তবে সরকারের এসব উদ্যোগের মধ্যেও দেশটির জনসংখ্যাগত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। চীনে বর্তমানে শিশুদের তুলনায় বয়স্ক মানুষের সংখ্যা ও নির্ভরশীলতার চাপ বেশি হয়ে উঠেছে। দেশটির প্রবীণ নির্ভরশীলতার হার ইতোমধ্যে শিশু নির্ভরশীলতার হারকে ছাড়িয়ে গেছে। ফলে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর দেখভাল ও তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়টি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এদিকে ২০২৫ সালে টানা চতুর্থ বছরের মতো চীনের মোট জনসংখ্যা কমেছে। একই বছরে দেশটির জন্মহারও রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে জনসংখ্যাবিদরা আশঙ্কা করছেন, আগামী বছরগুলোতেও দেশটির জনসংখ্যা হ্রাসের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি আরও কঠিন হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রজননক্ষম নারীর সংখ্যা কমে যাওয়ার পূর্বাভাস। জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী, ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের প্রজননক্ষম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চীনে এই বয়সসীমার নারীর সংখ্যা চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি কমে ১০ কোটির নিচে নেমে যেতে পারে।

Check Also

আগামী বছর ঈদুল ফিতর-আজহা ও পূজায় ছুটি থাকবে কয়দিন

২০২৭ সালে সাধারণ ছুটি ১৫ এবং নির্বাহী আদেশে ১৪ দিন মিলিয়ে মোট ২৯ দিন সরকারি …

Premium SEO Backlinks
Premium SEO Backlinks