মাদ্রাসায় শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন, বলাৎকার ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে উদ্বিগ্ন মুসলিম অভিভাবকদের জন্য নিরাপদ প্রাতিষ্ঠানিক বিকল্প তৈরি এবং ধর্মীয় শিক্ষার সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে সাধারণ, ইংলিশ মিডিয়াম ও কারিগরি শিক্ষায় কোরআন ও হাদিস শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ আইনি নোটিশ পাঠান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নোটিশটি পাঠানো হয়।
নোটিশে সাধারণ ও ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষায় প্রথম শ্রেণি থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব পাঠ্যক্রমে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ‘পবিত্র কোরআন শিক্ষা’ ও ‘হাদিস শিক্ষা’ নামে দুটি পৃথক কোর্স বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে ‘হিফজুল কোরআন’ কোর্স চালুর দাবি করা হয়েছে।
আইনি নোটিশে সংবিধানের ৪১ (১) (ক) অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বলা হয়, ধর্ম পালন ও ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করা নাগরিকের মৌলিক অধিকার। ইসলাম ধর্মে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ। দেশের ধর্মপ্রাণ অভিভাবকেরা সন্তানদের নৈতিক চরিত্র গঠন ও ইসলামি জ্ঞানে শিক্ষিত করার বিষয়ে সচেতন।
নোটিশে বলা হয়, ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে হেয় করা বা বন্ধ করা এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন, বলাৎকার, অনাকাঙিক্ষত স্পর্শ ও অমানবিক শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এবং মামলা সামনে আসায় অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, মাদ্রাসার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও অনেক অভিভাবক সন্তানদের সেখান থেকে সরিয়ে আনতে পারছেন না। কারণ সাধারণ শিক্ষা, ইংলিশ মিডিয়াম ও কারিগরি শিক্ষায় পূর্ণাঙ্গ ও পদ্ধতিগত ধর্মীয় শিক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে। ফলে সন্তানদের শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানের মধ্যে অভিভাবকেরা এক ধরনের সংকটে পড়েছেন।
নোটিশদাতার মতে, এ পরিস্থিতিতে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার এবং ৪১ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা হলে অভিভাবকেরা সন্তানদের জন্য নিরাপদ প্রাতিষ্ঠানিক বিকল্প পাবেন।
অ্যাডভোকেট মো. মাহমুদুল হাসান মামুন নোটিশে সংবিধানের ১৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের বয়স ও মেধার ধারণক্ষমতা অনুযায়ী কোরআন ও হাদিস শিক্ষার পৃথক কোর্স চালুর দাবি জানান। একই সঙ্গে যারা পবিত্র কোরআনের হাফেজ হতে আগ্রহী, তাদের জন্য সাধারণ, ইংলিশ মিডিয়াম ও প্রযোজ্য কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ দিবাকালীন পরিবেশে ঐচ্ছিক হিফজ কোর্স চালুর কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া অমুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য সংবিধানের ৪১(২) অনুচ্ছেদের আলোকে নিজ নিজ ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা সমমর্যাদায় বাধ্যতামূলক রাখার দাবি জানানো হয়।
আইনি নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাব্যবস্থায় কোরআন ও হাদিস শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং ঐচ্ছিক হিফজুল কোরআন কোর্স চালুর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শিশুদের নিরাপত্তা ও মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।
চাকরির বাজার Jobs and Career Solution