‘আমাদের আর কেউ রইল না, কী নিয়ে বেঁচে থাকব’

‘আমাদের আর কেউ রইল না, কী নিয়ে বেঁচে থাকব আমরা’- কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলতে বলতে নির্বাক হয়ে যান মো. জিয়াদুল কবির ও তার স্ত্রী কাজল রেখা। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন তাদের একমাত্র ছেলে নাফিস তেহামী (২৬), একমাত্র মেয়ে ফারিহা কবির (৩২) এবং পাঁচ বছরের নাতি ফাইজান আহম্মেদ নূর।

নিহত জিয়াদুল কবির বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কালিপুরা গ্রামের বাসিন্দা এবং অবসরপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা। সর্বস্ব হারিয়ে মোবাইল ফোনে জিয়াদুল কবির বলেন, ‘আমার এখন বাইচ্যা থাইক্যা লাভ কী? কী নিয়া আমি বাঁচমু? সবতো আমার শেষ হয়ে গ্যাছে।’ স্ত্রী কাজল রেখা বলেন, ‘ছেলে, মেয়ে, নাতি সব শ্যাষ অইয়া গ্যাছে, আমরা আর দুনিয়ায় বাইচ্যা থাইক্যা কী করমু। ও আল্লাহ আমাদেরও এখন নিয়া যাও।’

মেয়ে ফারিহা কবিরের স্বামী নূর আলম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘স্ত্রী, ছেলে, শ্যালক গ্যাছে, আল্লাহ মোরে এহন বাঁচাইয়া রাখছ কেন? ওগো লগে আমারেও নিয়া গ্যালেও বাইচ্যা যাইতাম।’

থানচির বলীপাড়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই ১৩ দোকান
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পূজার ছুটিতে মো. জিয়াদুল কবিরের মেয়ের জামাই নূর আলম চুয়াডাঙ্গা থেকে মেয়ে ফারিহা কবির, ছেলে নাফিস তেহামী ও নাতি ফাইজান নূর এবং দুই ভায়রার পরিবারের আরও ছয়জনসহ মোট ১০ জন নিয়ে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়া ইনানী মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন।

ছেলে নাফিস তেহামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ৫ম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি এ বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়ন করছিলেন। গত বৃহস্পতিবার বোন-ভগ্নিপতির সঙ্গে ঢাকা থেকে কক্সবাজার বেড়াতে যান। কক্সবাজার বেড়াতে গিয়ে পরের দিন গতকাল শুক্রবার সকালে জরুরি কাজের জন্য স্ত্রী ফারিহা কবির, ছেলে ফাইজান নূর ও শ্যালক নাফিস তেহামীকে সেখানে রেখে চুয়াডাঙ্গা ফিরে আসেন।

এ ঘটনায় জিয়াদুল কবিরের দুই ভায়রার মেয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩) ও জবি শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলাও (২৭) প্রাণ হারান। ছেলে, মেয়ে, নাতি ও ভায়রার তিন মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে জিয়াদুল কবির তার স্ত্রীকে নিয়ে শনিবার দুপুর ১২টার সময় বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

মালিহা ও নাবিলার মা রোকসানা আক্তার রীনা কান্না করতে করতে বলেন, ‘আমার জান নাবিলা ও মালিহা চলে গেছে, ও আল্লাহ আমাদেরও কেন মৃত্যু দাও না। আমাদেরও ওদের সঙ্গে নিয়ে যাও।’

এ বিষয়ে উখিয়ার ইউএনও পান্না আক্তার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দশজনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারনা করছি, এর মধ্য একই পরিবারের ছয়জন সদস্য হতে পারে। তবে ডিএনএ রিপোর্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

Check Also

পরীক্ষা না দিয়েই মেলে ফল, ফেল করেও এসএসসির রেজাল্ট জিপিএ-৫!

কখনো অকৃতকার্য হয়েও জিপিএ-৫, আবার কখনো পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেই সর্বোচ্চ ফল লাভ—নতুন কোনো ঘটনা …

Premium SEO Backlinks
Premium SEO Backlinks