বর্তমানে সাধারণভাবে সর্বোচ্চ ৩০ কেজি পর্যন্ত পার্সেল গ্রহণ করা হচ্ছে। পাঁচ কেজির একটি পার্সেল বেসরকারি কুরিয়ারে পাঠাতে যেখানে কমবেশি ১৩০ টাকা খরচ হয়, সেখানে একই পণ্য স্পিড পোস্টে পাঠাতে খরচ মাত্র ৩০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে স্পিড পোস্টের খরচ প্রায় ছয় টাকা। বেসরকারি কুরিয়ারে একই হিসাবে তা প্রায় ২৬ টাকা। খরচের এই বিশাল পার্থক্য স্পিড পোস্টকে জনপ্রিয় করে তুলছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আগামী দিনে বিমানবন্দর থেকে প্রবাসীদের লাগেজ সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। বেশির ভাগ এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লাগেজ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী দিনে ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের জন্য ক্যাশ অন ডেলিভারি (সিওডি) চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ অনলাইনে অল্প দামের পণ্যের ক্ষেত্রে ডেলিভারি চার্জ অনেক সময় পণ্যের মূল্যের কাছাকাছি হয়ে যায়। ডাক বিভাগের কম খরচের সেবা সেই বাধা কমিয়ে দিতে পারে।
ডাক বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডাক সার্ভিস) মো. জাকির হাসান নূর জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে সিওডি সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এটি চালু হলে অনলাইন ব্যবসায়ীরা ডাক বিভাগের মাধ্যমে পণ্য পাঠানোর পাশাপাশি গ্রাহকের কাছ থেকে পণ্যের মূল্যও সংগ্রহ করতে পারবেন। ফলে ডাক বিভাগ শুধু পরিবহন সেবা নয়, ই-কমার্সের একটি পূর্ণাঙ্গ লজিস্টিক অংশীদারে পরিণত হওয়ার সুযোগ পাবে।
বর্তমানে স্পিড পোস্ট সব উপজেলায় পৌঁছালেও ইউনিয়ন পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। ডাক বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধীরে ধীরে দেশের প্রায় ১০ হাজার সরকারি ও অবিভাগীয় পোস্ট অফিসে স্পিড পোস্ট চালু করা হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে সব পোস্ট অফিসকে এই নেটওয়ার্কে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী নিজস্ব যানবাহন কেনার পাশাপাশি ভাড়ায় যানবাহন নিয়ে পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্পিড পোস্টের চাহিদা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যবহারকারীদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। ইউনিয়নভিত্তিক ডাকঘরের বিশাল নেটওয়ার্ককে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ দেশের সবচেয়ে বড় কুরিয়ার নেটওয়ার্কে পরিণত হতে পারে। অর্থাৎ মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের বিস্তারে চিঠির ব্যবহার কমে যাওয়ায় ডাকঘরের ব্যস্ততা কমলেও ই-কমার্সের বিস্তারের যুগে স্পিড পোস্টে সেই ডাকঘর আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে।
চাকরির বাজার Jobs and Career Solution