উচ্চ রক্তচাপকে এতদিন মূলত বয়স্কদের সমস্যা মনে করা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসকরা বলছেন, বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যেও উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ২৮ শতাংশ হাইপারটেনশনে ভুগছেন, আর একটা উল্লেখযোগ্য অংশ তরুণ জনগোষ্ঠীও এই ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।
অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, ফাস্টফুড নির্ভর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত মানসিক চাপ আর কম শারীরিক পরিশ্রম, এসবই এই প্রবণতার পেছনে দায়ী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সমস্যা হলো, উচ্চ রক্তচাপের প্রথম দিকে প্রায় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না, তাই বয়স কম থাকায় অনেকেই বিষয়টা গুরুত্ব দেন না। অথচ দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে এখান থেকেই ভবিষ্যতে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, বয়স যাই হোক না কেন, নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি, বছরে দুই-একবার চেকআপের বদলে বাসাতেই মাঝেমধ্যে মেপে দেখাটা অনেক বেশি কার্যকর। ঘরে একটা ডিজিটাল প্রেশার মাপার যন্ত্র থাকলে এই অভ্যাসটা তৈরি করা সহজ হয়। যন্ত্র বাছাইয়ের সময় বাহুতে পরার মডেল কব্জির মডেলের চেয়ে বেশি নির্ভুল, আর ক্লিনিক্যালি ভ্যালিডেটেড কিনা সেটাও দেখে নেওয়া উচিত। পরিবারে একাধিক সদস্য থাকলে মাল্টি-ইউজার মেমোরি সুবিধা থাকা মেশিন বেছে নিলে প্রতিটা সদস্যের রিডিং আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা যায়, যা পরবর্তীতে চিকিৎসক দেখানোর সময় কাজে লাগে।
বয়স কম থাকাটা উচ্চ রক্তচাপ না হওয়ার নিশ্চয়তা নয়। তাই পরিবারের প্রতিটা সদস্যের জন্যই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষার অভ্যাসটা এখনই শুরু করা ভালো।
প্রসঙ্গত, এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য, কোনো চিকিৎসা পরামর্শ নয়। রক্তচাপ নিয়ে যেকোনো উদ্বেগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম।
চাকরির বাজার Jobs and Career Solution