সর্দি-কাশিতে আইসক্রিম খেলে কি বিপদ হতে পারে? চিকিৎসকের পরামর্শ

সর্দি হলেই আইসক্রিম, ঠান্ডা পানি বা ঠান্ডা খাবার থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়। অনেকের ধারণা, ঠান্ডা খাবার খেলে সর্দি বাড়ে, কফ জমে কিংবা ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু সত্যিই কি তাই? কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন ভিন্ন কথা। সাধারণ সর্দি মূলত ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। আর আইসক্রিম খেলে সেই ভাইরাস দ্রুত বংশবিস্তার করে এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এই চিকিৎসকের মতে, শুধু সর্দি হয়েছে বলেই আইসক্রিম বা ঠান্ডা খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

তাহলে সর্দি হলে আইসক্রিম খাওয়া যাবে?

সাধারণভাবে পরিমিত পরিমাণে আইসক্রিম খাওয়া যেতে পারে যদি তা খেলে আপনার শারীরিক অস্বস্তি না বাড়ে এবং দুধজাত খাবার হজমে সমস্যা না হয়।ঠান্ডা খাবার খাওয়ার কারণে সাধারণ সর্দির সংক্রমণ সরাসরি বেড়ে যায় না। আইসক্রিম ভাইরাসের বংশবৃদ্ধিও বাড়ায় না।

তবে এখানেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সবার শরীর ঠান্ডা খাবারে একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় না। কারও ক্ষেত্রে আইসক্রিম বা ঠান্ডা পানীয় গলা কিছু সময়ের জন্য আরাম দিতে পারে। আবার কারও ক্ষেত্রে এতে গলা বেশি খুসখুস করা, কাশি বা নাক বন্ধের অনুভূতি বাড়তে পারে। অর্থাৎ, সর্দির সময় আইসক্রিম খাবেন কি না সেটি অনেকটাই নির্ভর করছে আপনার শরীরের প্রতিক্রিয়ার ওপর।

ঠান্ডা খাবার কি গলা ব্যথা কমাতে পারে

অনেকের ক্ষেত্রে পারে। ঠান্ডা খাবার বা পানীয় গলার অংশ সাময়িকভাবে অবশ করে দেওয়ায় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া কিছুটা কম মনে হতে পারে। তবে অন্য কারও ক্ষেত্রে একই খাবার গলার অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই আইসক্রিম খেয়ে যদি আপনার কাশি বা গলা ব্যথা বেড়ে যায়, তাহলে জোর করে খাওয়ার প্রয়োজন নেই।

আইসক্রিম খেলে কফ বা মিউকাস বেড়ে যায় এমন ধারণা প্রচলিত আছে। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

আইসক্রিম খেলে কফ বা মিউকাস বেড়ে যায় এমন ধারণা প্রচলিত আছে। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

আইসক্রিম খেলে কফ বা মিউকাস বেড়ে যায় এমন ধারণা প্রচলিত আছে। দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খেলে শরীরে বেশি কফ তৈরি হয় এমন ধারণার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে দুধ বা আইসক্রিম খাওয়ার পর মুখে সাময়িকভাবে একটা পুরু বা আঠালো অনুভূতি হতে পারে। অনেকের কাছে সেটি অতিরিক্ত কফ বা মিউকাস মনে হয়। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে দুধ শরীরে আসলে বেশি মিউকাস তৈরি করছে।

কখন আইসক্রিম এড়িয়ে চলবেন?

সর্দির সঙ্গে যদি গলা ব্যথা, অতিরিক্ত কাশি, বমিভাব, বমি, ডায়রিয়া বা খাবার গিলতে সমস্যা থাকে, তাহলে আইসক্রিমের পরিবর্তে নরম ও তুলনামূলক উষ্ণ খাবার বেছে নেওয়া ভালো হতে পারে। এ ছাড়া দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খেলে যদি সাধারণত আপনার পেটের সমস্যা হয়, তাহলে অসুস্থ অবস্থায় আইসক্রিম খেলে সেই অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, সর্দি হয়েছে মানেই আইসক্রিম বা ঠান্ডা খাওয়া যাবে না এমন কোনো নিয়ম নেই। আইসক্রিম ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় না বা ভাইরাসকে দ্রুত বংশবিস্তার করায় না। তবে খাওয়ার পর শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া করছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।  তাই ঠান্ডা লাগলেই আইসক্রিম খাওয়া যাবে না বিষয়ট এমন নয়। বরং এই সময় পুষ্টিকর খাবার এবং বিশ্রাম নিতে বলছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু যদি পরিস্থিতি খারাপের দিকে যায় বাসায় না থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া ভালো।

Check Also

এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীর পক্ষে ‘আপসনামায়’ কী লিখেছেন দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় কারাবন্দী সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম …

Premium SEO Backlinks
Premium SEO Backlinks