রাত জেগে রিল দেখার অভ্যাসেই বাড়ছে অল্পবয়সিদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি! বাঁচার মন্ত্র ‘ডিজিটাল সানসেট’

সকালের শারীরচর্চা, তেলমশলা ছাড়া ডায়েট, সব মানার পরেও নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না? কারণ, রাতের একটা চেনা অভ্যাসই চুপিসারে ক্ষতি করছে হৃদ্‌যন্ত্রের। দেরি করে ঘুম আর মোবাইলের নীল আলোয় আসক্তিই অল্পবয়সে বাড়াচ্ছে হার্টের রোগের ঝুঁকি, সতর্ক করলেন চিকিৎসকেরা।

সকালে উঠে শারীরচর্চা, তেলমশলা বাদ দিয়ে স্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া, সবই করছেন। কিন্তু আপনি নিশ্চিত কি, হৃদ্‌যন্ত্রটি ভাল থাকছে? হার্ট ভাল রাখতে নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন জরুরি। তবে রাতের এক সাধারণ অভ্যাসই নিঃশব্দে অল্পবয়সিদের হৃদ্‌যন্ত্রের ক্ষতি করছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।

রাত বাড়লেই বিছানায় শুয়ে মোবাইলে ডুবে যাচ্ছেন? এই এক অভ্যাসই নীরবে বাড়াচ্ছে রক্তচাপ, নষ্ট করছে ঘুম, আর ৩০ পেরোনোর আগেই ডেকে আনছে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি। কার্ডিয়োলজিস্টদের পরামর্শ, বাঁচতে চাইলে মেনে চলুন ‘ডিজিটাল সানসেট’। কী এই নিয়ম, আর কী ভাবেই বা শুরু করবেন, রইল বিস্তারিত।

কলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন এক হোটেলে ‘ওয়ার্ল্ড হার্ট ডে’ উপলক্ষে কার্ডিয়োলজিক্যাল সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কী ভাবে কম ঘুম ধীরে ধীরে অল্পবয়সিদের হৃদ্‌যন্ত্রের ক্ষতি করে চলেছে, তা নিয়ে এক আলোচনাসভা আয়োজিত হয়েছিল। দেশ-বিদেশের হৃদ্‌রোগ চিকিৎসক, শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রী হাজির ছিলেন ২৯ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠিত এই সভায়। কার্ডিয়োলজিস্টরা বলছেন, দেরিতে ঘুম আর স্ক্রিনের আসক্তিই অল্পবয়সিদের হৃদ্‌রোগের নীরব কারণ হয়ে উঠছে। এখানেই আসছে ‘ডিজিটাল সানসেট’ ধারণাটি। সূর্যাস্তের মতোই দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর সব ডিজিটাল আলো নিবিয়ে দেওয়ার অভ্যাস কমাতে পারে হৃদ্‌রোগের আশঙ্কা। অর্থাৎ রাতের একটা নির্দিষ্ট সময়, ধরুন রাত ৮টা বা ৯টার পর আর মোবাইল, ল্যাপটপ, টিভি ব্যবহার একেবারেই করা চলবে না।

কেন হার্টের সঙ্গে সম্পর্ক? চিকিৎসক বিএন ঝা বলেন, ‘‘রাতে মোবাইল, টিভির নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়। ফলে ঘুম দেরিতে আসে, ঘুম গভীর হয় না। বার বার ঘুম ভেঙে যায়। দিনের পর দিন কম ঘুম মানেই শরীরে ক্ষরণ বাড়ে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের। ফলে বেড়ে যায় রক্তচাপ, বাড়ে ওজন। এই তিনটিই হার্টের শত্রু। একটানা ৭ ঘণ্টার কম ঘুম নিয়মিত হলে ৩০-এর আগেই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। ডিজিটাল সানসেটের মাধ্যমে তাই আজ থেকেই ঘুমের চক্র ঠিক করে স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করা জরুরি।’’

ওয়ার্ল্ড হার্ট ডে’ উপলক্ষে কার্ডিয়োলজিক্যাল সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হাজির শহরের চিকিৎসকেরা। ওয়ার্ল্ড হার্ট ডে’ উপলক্ষে কার্ডিয়োলজিক্যাল সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হাজির শহরের চিকিৎসকেরা। ছবি: সংগৃহীত।

চিকিৎসক শুভাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের মতে, হৃদ্‌যন্ত্রকে যেমন খাটাতে হবে, তেমনই বিশ্রামও দিতে হবে। চিকিৎসক বলেন, ‘‘রাতে ঘুমোনোর সময় হৃৎপিণ্ড বিশ্রাম পায়। ঘুমের সময় রক্তচাপ সাধারণত ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমে যায়, যা রক্তনালিকে শিথিল করে। হৃদ্‌যন্ত্রও বিশ্রাম পায়। ঘুম অসম্পূর্ণ হলে বা ঘন ঘন ভেঙে গেলে, স্বাভাবিক রক্তচাপ কমার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, ফলে হৃৎস্পন্দন যতটা কমা উচিত, ততটা কমে না এবং রক্তচাপও প্রয়োজনীয় মাত্রার নীচে নামে না। ফলে হৃদ্‌যন্ত্র সঠিক ভাবে বিশ্রাম পায় না। এমনটা রাতের পর রাত চলতে থাকলে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্ষতি হওয়া স্বাভাবিক।’’

কী ভাবে ‘ডিজিটাল সানসেট’ অভ্যাস করবেন?

১) সময় বাঁধুন: প্রথমে ঠিক করুন সানসেট টাইম। রাত ১০টা আদর্শ। সেই সময়ে ফোনে অ্যালার্ম দিন, নাম দিন ‘সানসেট’। ওই অ্যালার্মের পরে সচেতন হয়ে মোবাইল ব্যবহার একেবারে বন্ধ করুন, টিভি দেখাও চলবে না।

২) বিকল্প তৈরি রাখুন: ফোন রেখে দিলে হাত নিশপিশ করবে। তার বদলে বই পড়া, গান শোনা, পরিবারের সঙ্গে গল্প করা বা হালকা হাঁটার অভ্যাস করুন। ওই সময়টা কিসের জন্য বরাদ্দ করবেন, তা আগে থেকেই ভেবে রাখুন।

৩) নো ফোন জোন: শোয়ার ঘরে ফোন নিয়ে ঢুকবেন না। চার্জ দিন বসার ঘরে। দরকারে সাধারণ অ্যালার্ম ঘড়ির ব্যবহার আবার শুরু করুন।

৪) ধীরে শুরু করুন: একদিনেই অভ্যাস বদলাবে না। প্রতি সপ্তাহে ১৫ মিনিট করে এগিয়ে আনুন।

হৃদ্‌রোগ চিকিৎসকদের পরামর্শ, ডিজিটাল সানসেট কোনও কঠিন কিছু নয়, এটা লাইফস্টাইল রিসেট। মাত্র ২১ দিন মেনে চললেই ঘুম ভাল হবে, মাথা হালকা লাগবে, আর দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত থাকবে হৃদ্‌যন্ত্র।

Check Also

‘ভয়েস রেইজ করায় পুরো রাষ্ট্রশক্তিকে আমার বিরুদ্ধে নামানো হয়েছে’

কার্যালয়ে অস্ত্রধারীদের হামলার পর নিরাপত্তা দাবি করায় রাষ্ট্রযন্ত্র, বিভিন্ন সংস্থা ও গণমাধ্যম তার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে …

Premium SEO Backlinks
Premium SEO Backlinks