আমি বাইরে মুখ দেখাব কীভাবে, বাবাকে বলেছিলেন নজরুলপত্নী মরিয়ম

সকাল থেকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল মর্গে টিনএজ মেয়ের লাশের জন্য বসেছিলেন মাসুম বিল্লাহ দম্পতি। মেয়েকে সদ্য হারিয়ে বাবা কখনো কাঁদছেন, কখনো শান্ত ভঙ্গিতে কথা বলছেন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে।

জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের শ্বশুর মাসুম বিল্লাহ বলেন, “আমি তো চাই সঠিক তদন্ত, আমি যেন ন্যায় বিচারটা পাই; প্রকৃত দোষী যেন শাস্তি পায়।”

আপনার সঙ্গে শেষ কী কথা হয়েছিল, মেয়ে কোনো কষ্টের কথা বলেছিল কি না, জানতে চাইলে এ বাবা বললেন, “আমার সাথে কথা কম হতো, তবে এমপির সাথে সবসময় কথা হতো, পাশে থাকতো; কথা বলতে গেলে ও কথা বলতো না তো।”

এ ঘটনার জন্য নিজের শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে দায়ী করে মাসুম বিল্লাহ বলেন, “ও (মরিয়ম) বলতো যে, ‘আমি বাইরে মুখ দেখাব কীভাবে। সে আমার মামা, আমার এত বড় ক্ষতি করবে আমি বুঝতে পারিনি। আমাকে মাফ করে দেন, আমি বাপের থেকে তাকে বেশি বিশ্বাস করতাম। বিশ্বাস করে আজকে আমি ওই পরিণতি ভোগ করতেছি’।

“মেয়ে এই সব বলতো আর আমার পা জড়ায় কানতো। ওবায়দুলের কথা বলতো। ওরে খুব বিশ্বাস করে আজকে ওর এই পরিণতি। ওই ঘটনা না ঘটলে ওরে এমপি হোস্টেলে আইসা থাকা লাগে না, তাহলে এই ঘটনাও ঘটতো না।”

জানতে চাইলে মুদি দোকানি মাসুম বিল্লাহ বলেন, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল তার আপন খালু।

বাবার খালুর সঙ্গে কী করে মেয়ে সম্পর্কে জড়াল, এমন প্রম্নে মাসুম বলেন, “আমরা প্রথমে বুঝতে পারিনি। অনেক পরে জানতে পারছি। কিন্তু ওর মামার জন্য এভাবে সব শেষ হয়ে গেল।”

ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাটে পুলিশ মরিয়মের হাতে লেখা চিরকুট বলে যে কাগজগুলো উদ্ধারের কথা জানিয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে মাসুম বলেন, “এগুলো ওর লেখা কি না, সেটা আমি বলতে পারছি না। আমি ওর লেখা চিনি না।”

রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

শেরেবাংলা নগর থানার একাধিক কর্মকর্তা জানান, এ মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তারা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করবেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।