বসকে না জানিয়ে চাকরি ছাড়ার পরিষেবা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে জাপানে

বসের মুখোমুখি না হয়েই চাকরি ছাড়তে জাপানে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পদত্যাগে সহায়তাকারী সংস্থার সেবা। কর্মীর হয়ে নিয়োগকর্তাকে চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানায় এসব প্রতিষ্ঠান। মাত্র ১৫ মিনিটে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে পারে। বিশেষ করে তরুণ কর্মীদের মধ্যে এ সেবার চাহিদা বেশি।

জাপানের অন্যতম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান অ্যালবাট্রস প্রতি মাসে প্রায় ৪৫০ জনকে মুখোমুখি সংঘাত ছাড়াই চাকরি ছাড়তে সহায়তা করে। পূর্ণকালীন কর্মীদের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানটি জনপ্রতি প্রায় ১২০ ইউরো বা ১৩৮ দশমিক ৫ ডলার নেয়। গ্রাহকদের বেশির ভাগই সেবা ও উৎপাদন খাতের তরুণ পেশাজীবী।

অ্যালবাট্রসের প্রধান নির্বাহী ইউকা হামাদা জানান, শারীরিক সহিংসতা থেকে যৌন হয়রানি-নানা কারণে কর্মীরা তাদের দ্বারস্থ হন। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান শিকিগাকুর জরিপে ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী জাপানি কর্মীদের প্রায় প্রতি তিনজনে একজন কর্মক্ষেত্রে কোনো না কোনো হয়রানির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

জাপানের প্রচলিত করপোরেট সংস্কৃতিতে আনুগত্যকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। অনেক বস পদত্যাগকে অপমান হিসেবে দেখেন। ফলে সরাসরি চাকরি ছাড়ার কথা বলতে ভয় পান বহু তরুণ। রিক্কিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক হিরোকি নাকামোরির মতে, পদত্যাগের ঘোষণা কর্মীদের কাছে শুধু চুক্তির অবসান নয়, অন্যকে হতাশ করা কিংবা প্রত্যাশা ভঙ্গের মতো মনে হতে পারে।

নোটিশ ছাড়াই কর্মস্থল থেকে উধাও হওয়াকে জাপানে বলা হয় ‘বান্ধুরে’। তবে সংস্থার মাধ্যমে চাকরি ছাড়লেও সৌজন্য বজায় রাখার চেষ্টা থাকে। কর্মীরা সরাসরি বিদায় বা কৃতজ্ঞতা জানাতে না পারলে সংস্থা তাদের হয়ে সেই বার্তা পৌঁছে দেয়। অন্যদের অসুবিধা কমাতে চাকরি ছাড়ার আগে নিজের ডেস্ক গুছিয়ে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শও দেয় অ্যালবাট্রস।

সূত্র: ডয়েচে ভেলে

Check Also

বেশি বিল আসায় কর্মীকে গালাগালের অভিযোগ, গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করল পল্লী বিদ্যুৎ

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে বেশি বিদ্যুৎ বিল নিয়ে পল্লীবিদ্যুতের এক কর্মীকে গালাগাল ও কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে …

Premium SEO Backlinks
Premium SEO Backlinks