বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে স্ত্রীর প্রতারণা-একাধিক বিয়ের অভিযোগ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পারভেজ হোসেন নিয়ামতের (৩০) নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও একাধিক বিয়ের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্ত্রী রেক্সানা পারভীন (৩০)।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

অভিযুক্ত পারভেজ বর্তমানে উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক এবং উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

রেক্সানা জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং একই ইউনিয়নের পানিপাড়া গ্রামের হামিদ মোল্লার ছেলে পারভেজ হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে লাবিব হোসেন রাজ নামে আড়াই বছরের একটি ছেলে সন্তান ও মাত্র ৯ মাস বয়সি অনয়া পারভেজ সারা নামে এক কন্যা সন্তান নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে সন্তানদের তিনি নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানান।

রেক্সানার অভিযোগ, ওই বিএনপি নেতার অভিনব প্রতারণার শিকার হয়ে তার নামে অর্থঋণের মামলা করেছে একটি সমিতি। স্বামীর এমন প্রতারণায় অর্থঋণের মামলা থেকে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে রেক্সানা পারভীন জানান, তিন বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে ছাত্রদল নেতা (তৎকালীন) পারভেজ হোসেন নিয়ামতের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের তিন মাস পরেই তার স্বামী একটি মাইক্রোবাস কিনে ভাড়ায় চালানোর জন্য এনজিও থেকে একলাখ টাকা তুলে দেওয়ার কথা জানান। এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে তার এক আত্মীয়ের নিকট থেকে এক লাখ টাকা এনে দেন। পরবর্তীতে ওই বছরের ১৮ মে তাকে দিয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলার ব্যুরো বাংলাদেশ সমিতি থেকে এক লাখ টাকা তুলে নেন স্বামী পারভেজ হোসেন নিয়ামত এবং সে নিজেই জামিনদার হোন। এছাড়া কিস্তির সকল টাকা তার স্বামী দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

পারভীন বলেন, টাকা উঠিয়ে দেওয়ার পর থেকে আচরণ বদলে যায়, মাত্র ২৫ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধ করার পর কিস্তি দেওয়া বন্ধ করে দেয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তার স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে রয়েছে কিন্তু আমাকে মিথ্যা কথা বলে বিয়ে করেছিল। একপর্যায়ে আমাদের ছেলে সন্তানের জন্ম হলেও খোঁজখবর নেওয়া বন্ধ করে দেয়। এতে আমি আরও মানসিক চাপে পড়ে যাই।

তিনি আরও বলেন, কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য তাকে আটকে রাখা হলে শালিসে বসে টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং ৮০ হাজার টাকার একটি চেক দেন। পরে ওই চেক নিয়ে টাকা তুলতে গিয়ে দেখি তার অ্যাকাউন্টেও টাকা নাই। এরপর আদালতে যৌতুক মামলা করলে আমার সঙ্গে আপোশ মীমাংসা করার কথা জানায় এবং সন্তানের দিকে তাকিয়ে সব মেনে নিই। এরপর আবারও আমাদের একটি কন্যা সন্তান গর্ভে আসে।

কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসায় এবং দলীয় পদ পেয়ে আবারও তার আচরণ পাল্টে যেতে শুরু করে। তখন কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে বললে নানাভাবে আমাকে হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে ওই সমিতির কর্তৃপক্ষ আমার নামে অর্থঋণের মামলা করে। মামলার বিষয়ে জানালে কোনো গুরুত্ব না দিয়ে আমার সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

পারভীনের ভাষ্যমতে, এই বিএনপি নেতা তিনটি বিয়ে করেছেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে অন্যত্র আরেকটি বিয়ে করেছেন। এছাড়া এই বিএনপি নেতার বাবা ভ্যানচালক হলেও বর্তমানে বাড়িতে দ্বিতল বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ করেন।

অর্থঋণের মামলা ও স্বামীর প্রতারণা থেকে মুক্তির দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, স্বামী সমিতির টাকা পরিশোধ করে দিলে মামলা থেকে মুক্তি পাব। তা-না হলে ছোট ছোট দুই সন্তান নিয়ে বিপদে পড়ে যাব। আমি এই মামলা থেকে বাঁচতে চাই।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা পারভেজ হোসেন নিয়ামত বলেন, সন্তান দুইটি আমার না। তার সঙ্গে সম্পর্ক থাকাকালীন আমার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয় এবং বাধ্য হয়ে বিয়ে করেছিলাম। কিন্তু তার সঙ্গে থাকিনি।

তিনি আরও বলেন, কিস্তির টাকা তুলেও আমাকে দেয়নি। ওই টাকা তোলার সময় কৌশলে আমাকে জামিনদার করা হয়েছিল। নতুন করে টাকা আদায়ের জন্য ষড়যন্ত্র করছে।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান আব্বাস বলেন, এ বিষয়ে ছয় মাস আগে আদালতের রায়ে দেনমোহর ও সন্তানদের ভরণপোষণ বাবদ প্রতিমাসে ২৫ হাজার টাকা করে চার লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। হয়ত এই টাকা নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রীই তাকে কাছে নেওয়ার জন্য এই ঝামেলা করছে।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে আলফাডাঙ্গা ব্যুরো বাংলাদেশ সমিতির ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার তুহিন হাবিব বলেন, আমরা মূলত নারীদের ঋণ দিয়ে থাকি, সেক্ষেত্রে স্বামী প্রথম জামিনদার থাকেন। এছাড়া ঋণখেলাপি হলে মামলা ঋণগ্রহীতার নামেই হবে। এক্ষেত্রে স্ত্রীর নামেই হয়েছে। এখন স্বামী-স্ত্রী সমঝোতা করে মামলা মিটাবে।

Check Also

হঠাৎ হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, দেরিতে উপস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বললেন— ‘আই ওয়ার্ন ইউ’

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত …

Premium SEO Backlinks
Premium SEO Backlinks