কোনও হিন্দু যদি মনে করে যে ভারতে কোনও মুসলিম থাকা উচিত নয়, তবে সে আর আর হিন্দু থাকে না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপির মতাদর্শিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভগবত। শনিবার (২৯ আগস্ট) নিউ ইয়র্কে আয়োজিত এক বহুধর্মীয় সংলাপে বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখার কথা বলতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
হিন্দু-মুসলিম ঐক্য এবং আরএসএস-এর ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ গঠনের ইচ্ছা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মোহন ভগবত বলেন, ‘আপনি যদি নিজেকে হিন্দু বলে পরিচয় দিতে চান, তবে আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে যে সব পথই একই গন্তব্যে নিয়ে যায়। প্রতিটি মানুষেরই নিজস্ব মর্যাদা রয়েছে এবং মানুষের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই।’
নিজের একটি স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেখানে আমার একটি বক্তব্য ছিল, যেখানে কিছু মুসলিম ভাইও উপস্থিত ছিলেন। তারা আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন, আপনি একটি হিন্দু সংগঠন পরিচালনা করেন, হিন্দু রাষ্ট্রের কথা বলেন, তাহলে আমাদের মুসলিমদের কী হবে? আপনারা কি আমাদের তাড়িয়ে দেবেন? আমি বলেছিলাম, না, সেটা হিন্দুত্ব নয়। কোনও হিন্দু যদি মনে করে যে ভারতে কোনও মুসলিমের থাকা উচিত নয়, তবে সে আর হিন্দু থাকে না।’
মস্কো সফরে ট্রাম্প-পুতিন-জেলেনস্কি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন সিআইএ পরিচালকমস্কো সফরে ট্রাম্প-পুতিন-জেলেনস্কি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন সিআইএ পরিচালক
নিজের সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আরএসএস প্রধান বলেন, তিনি এমন এক সমাজ থেকে এসেছেন যা ধর্মের চেয়ে মানবতাকে ওপরে স্থান দেয়। তিনি বলেন, ‘আমি কোনও ধর্মীয় কর্তৃত্বের অধিকারী ব্যক্তি নই। তবে আমি এমন একটি সমাজে কাজ করি যা ঐতিহ্যগতভাবেই বলে যে ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু মানবতা এক। সত্য এক এবং মানবতা সেই সত্যেরই ফসল। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী এই একটি সত্যকেই নানাভাবে বর্ণনা করা হয়, কারণ মানুষ হিসেবে আমরা আমাদের মস্তিষ্কে তৈরি হওয়া মানসিক কাঠামোর কাছে বন্দি।
আধ্যাত্মিকতার পথে আচার-অনুষ্ঠানের শৃঙ্খলার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ভগবত বলেন, বর্তমানে বিশ্বে ধর্মগুলো প্রধানত আচার-অনুষ্ঠান দিয়েই সংজ্ঞায়িত হয়। আর একটি ধর্মীয় শৃঙ্খলার মধ্যে খাপ খাইয়ে নিতে এবং সেই ঈশ্বরপ্রাপ্তির পথে হাঁটতে এই আচার-অনুষ্ঠানের শৃঙ্খলাও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
চাকরির বাজার Jobs and Career Solution