ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের খাবারে আস্ত খাসি না পাওয়ায় বিয়ে না করে চলে যাওয়া সেই জাপান প্রবাসী জুনায়েদ মিয়া বিয়ে করেছেন। বড় খাসির খদর দিয়েই তিনি বিয়ে করেছেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ১টার দিকে প্রবাসী জুনায়েদ মিয়া ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পোস্টে তিনি তার স্ত্রীর সঙ্গে তোলা একটি ছবিও যোগ করেছেন।
জানা গেছে, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হয়েছে কনের মামার বাড়ি কসবা উপজেলার নেয়ামত গ্রামে। আর কনের বাড়ি আগের কনের পাশের গ্রাম আখাউড়া উপজেলার নুরপুর গ্রামে।
পোস্টে জুনায়েদ লিখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিবাহ সম্পন্ন হলো। মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। সবার কাছে দোয়া ও শান্তিময়, সুখী দাম্পত্য জীবনের কামনা করছি।’
এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের খাবারে আস্ত খাসি না পাওয়ায় বিয়ে না করে চলে যান জাপান প্রবাসী জুনায়েদ মিয়া।
বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়। যদিও, কনেপক্ষের বিরুদ্ধে পূর্বনির্ধারিত কাবিনের চেয়ে ১০ গুণ বেশি কাবিন দাবি, যোগাযোগে বাধা এবং তাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন জুনায়েদ।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে জুনায়েদ মিয়া উল্লেখ করেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। আমি জুনায়েদ মিয়া। গতকাল থেকে আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ চালানো হচ্ছে, টাকা দিয়ে ভুয়া সাংবাদিক ভাড়া করে এসব করানো হচ্ছে।
বিয়ের আসরে বসে খাওয়া দাওয়া শেষে মেয়েপক্ষ আমার কাছে পূর্ব নির্ধারিত এমাউন্ট এর চেয়ে ১০ গুন অতিরিক্ত কাবিন দাবি করে। আমি এবং আমার পরিবার তা দিতে অস্বীকার করলে এবং কথা কাটাকাটি-তর্কাতর্কি শুরু হলে তারা আমাদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেয়, এবং পরবর্তীতে আমাদের সকল লাগেজ, যা আমরা তাদের মেয়ের জন্য নিয়ে গেছিলাম সেটা ফেরত পাঠায়।’
তিনি আরো লিখেন, ‘উল্লেখযোগ্য যে, মেয়ের সঙ্গে আমাকে কোনোরকম যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি এবং সে যাতে যোগাযোগ করতে না পারে, সেভাবেই তার বাবা তাকে শাসিয়েছে। রাতে তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিয়ে করতে বললেও আমি তাতে রাজি হইনি। ফলে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে আমাকে জবাই করে ফেলার। তারপর তারা রাত থেকে টাকা দিয়ে ভাড়া করা সাংবাদিক দিয়ে নিজ খুশি মতো ভুয়া পোস্ট করিয়ে আমার সম্মানহানির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আপনারা এগুলাতে বিচলিত হবেন না সেই আশা করছি। ধন্যবাদ।’
তবে জুনায়েদের বক্তব্যের সঙ্গে স্থানীয়দের বক্তব্য সম্পূর্ণ বিপরীত। নিয়ামতপুর গ্রামের গ্রাম পুলিশ সালাম মিয়া জানান, ঘটনাটি খাসিকে কেন্দ্র করেই হয়েছে বলে শুনেছি। একই গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য মো. আলামিনও বলেন, ‘ঘটনার সূত্র খাসিকে কেন্দ্র করেই হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।’
