“গুলিটা আমার কোমরের পেছনে একপাশে ঢুকে তেরছা হয়ে সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়। এইরকম একটা গুলি। কিন্তু আমার কাছে মনে হলো একটা পিঁপড়া কামড় দিয়েছে! তারপর হঠাৎ নিচে তাকিয়ে দিয়ে গলগল করে রক্ত পড়ছে।”
বিবিসি বাংলাকে নিজের আহত হওয়ার সেই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলছিলেন বিশ বছর বয়সী শাকিল আহমেদ। তিনি ২০২৪ সালের চৌঠা অগাস্ট মিরপুর দশ নম্বর গোলচত্বরের কাছে আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন।
তখন তিনি ছিলেন একটি কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী।
সেদিন তিনি মিরপুরে নিজেও ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন তার স্মার্টফোনে।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে গোলাগুলি শুরু হয়। শাকিল নিজেও গুলিবিদ্ধ হন।
“গুলি লাগার পর আমি চেষ্টা করছিলাম দূরে সরে আসার। কিন্তু এতো রক্ত। আমার শরীর নিস্তেজ হয়ে যায়। বল পাই না, রাস্তায় পড়ে যাই। আমি ভেবেছিলাম, এটাই শেষ। মরে যাচ্ছি। ফলে যে দুয়েকজন আমাকে তুলতে আসে তাদেরকে অনুরোধ করি আমার মায়ের মোবাইল নাম্বারটা টুকে নিতে। যেন আমার লাশটা অন্তত মায়ের কাছে পৌছায়।”
গুলিবিদ্ধ শাকিলের মায়ের মোবাইল নাম্বার বলতে থাকার সেই ভিডিওটি পরে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি হয়তো মারা গিয়েছেন।
“কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমি বেঁচে যাই। শরীরে ভয়ানক ক্ষতি হয়। পরে আমাকে সরকারিভাবে থাইল্যান্ডে নেয়া হয় চিকিৎসার জন্য। কিন্তু আমার শরীরে যে ক্ষতি হয়েছে, সেটা মনে হয় আজীবন থেকে যাবে।”
