রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বিদায় নেওয়ার পর সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)-কে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে তদন্ত, মামলা এবং গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হচ্ছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি মামলা দায়ের বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির তথ্য পাওয়া যায়নি।
এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী একজন সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মামলা করা সম্ভব কি না।
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫১ অনুযায়ী, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দায়মুক্তি ভোগ করেন। এ সময়ে তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা আদালতে দায়ের করা যায় না এবং তাকে গ্রেপ্তারও করা যায় না।
তবে সংবিধানে কোথাও বলা হয়নি যে, দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি আজীবন দায়মুক্তি ভোগ করবেন। ফলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির পর তিনি অন্য যেকোনো নাগরিকের মতো দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় আসেন। তার বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগে আইনগত ভিত্তি ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত, মামলা ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় সাংবিধানিক কোনো বাধা নেই।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক দাবি বা জনমতের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায় না। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা বা গ্রেপ্তারের জন্য যথাযথ অভিযোগ, প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী তদন্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন।
এদিকে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা তদন্ত এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। তবে সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা বা গ্রেপ্তার সংক্রান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সাংবিধানিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মামলা হবে কি না, সেটি নির্ভর করবে অভিযোগের প্রকৃতি, প্রমাণ এবং তদন্তকারী সংস্থার অনুসন্ধানের ওপর। সংবিধান তাকে স্থায়ী দায়মুক্তি দেয় না; আবার কেবল রাজনৈতিক দাবির ভিত্তিতেও মামলা বা গ্রেপ্তার করা যায় না। এ ক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত আইন এবং আদালতের নির্দেশনাই চূড়ান্ত বিবেচ্য।
চাকরির বাজার Jobs and Career Solution