শুধু পড়া নয়, একই বিষয় ১০-১৫ বার পর্যন্ত লেখাই ছিল প্রথম চেষ্টায় ক্যাডার রিদয়ের মূলমন্ত্র

প্রথমবারের চেষ্টাতেই ৪৭তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অর্থনীতি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসেন রিদয়। বিসিএসের ইতিহাসের অন্যতম প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরীক্ষায় প্রথমবারেই প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষা পেরিয়ে ক্যাডার হওয়ার অভিজ্ঞতাকে তিনি ‘স্বপ্নের মতো’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে পরিবারের অনুপ্রেরণা, ধারাবাহিক পরিশ্রম, লেখার অভ্যাস এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি অগাধ বিশ্বাস।

ইসমাইল হোসেন রিদয় বলেন, ‘এই সাফল্যের অনুভূতি এখনও আমার কাছে অবিশ্বাস্য। প্রথমবারেই বিসিএসের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষা পেরিয়ে ক্যাডার হব এটা কখনো ভাবিনি। আলহামদুলিল্লাহ, সব কিছুর জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ।’

পারিবারিক পরিচয় তুলে ধরে তিনি জানান, তিনি বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। চার বোনের সবাই স্নাতক সম্পন্ন করেছেন এবং তাদের মধ্যে তিনজন বিভিন্ন পেশায় কর্মরত। তার বাবা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সাধারণ সৈনিক ছিলেন এবং মা একজন গৃহিণী।

শিক্ষাজীবনের শুরু গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর উপজেলা পর্যায়ের একটি স্বনামধন্য বিদ্যালয় থেকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় উপজেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন। সরকারি যদুনাথ পাইলট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসিতে জিপিএ ৪.৯৪ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করেন। পরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়ে স্নাতকে সিজিপিএ ৩.৬ এবং ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকোত্তরে সিজিপিএ ৩.৫ অর্জন করেন।

নিজের সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে তিনি বাবা-মা ও বড় বোনদের কথা জানান তিনি। তাদের স্বপ্ন ছিল তিনি জীবনে বড় কিছু করবেন। সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন বলে জানান তিনি।

প্রস্তুতির কৌশল সম্পর্কে রিদয় বলেন, শুধু পড়ার ওপর নির্ভর না করে তিনি বারবার লিখে অনুশীলন করতেন। অনেক বিষয় ১০ থেকে ১৫ বার পর্যন্ত লিখেছেন। পাশাপাশি সৃষ্টিকর্তার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস তাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তুতির সময় অনেকবার হতাশা এসেছে। মনে হয়েছে হয়ত সফল হতে পারবেন না। কিন্তু লক্ষ্য থেকে সরে না গিয়ে প্রতিবারই নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি শুরু করেছেন। ক্যাডার পছন্দের বিষয়ে তিনি জানান, তার প্রথম পছন্দ ছিল প্রশাসন ক্যাডার। এরপর ট্যাক্স এবং তারপর সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন।

ভবিষ্যৎ বিসিএস পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে রিদয়ের পরামর্শ, নিজের স্বাচ্ছন্দ্য, সততা বজায় রাখার সুযোগ এবং কাজের পরিবেশ বিবেচনায় রেখে ক্যাডার পছন্দ করা উচিত। তিনি বলেন, ‘যে জায়গায় নিজেকে সৎ রাখতে পারবেন, চাপ কম অনুভব করবেন এবং নিজের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবেন সেই ক্যাডারই বেছে নেওয়া উচিত।’

বিসিএস প্রস্তুতি নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সৎ থাকুন, কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করবেন না, নিজের ধর্ম যথাযথভাবে পালন করুন, সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা রাখুন এবং প্রচুর পড়াশোনা করুন।’

আরও পড়ুন: বউয়ের ভালোবাসায় বিসিএসের স্বপ্ন জয় করিমের

বিসিএসকেই একমাত্র লক্ষ্য বানানোর প্রবণতার সঙ্গে তিনি একমত নন। তিনি বলেন, বিসিএসে পদসংখ্যা সীমিত, কিন্তু প্রতিযোগী অনেক। তাই নিজের যোগ্যতা ও সক্ষমতা বিবেচনা করে অন্যান্য চাকরির ক্ষেত্রেও প্রস্তুতি রাখা উচিত।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ইসমাইল হোসেন রিদয় বলেন, তিনি সততার সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে চান এবং সুযোগ পেলে দেশের জন্য কাজ করতে চান। তার ভাষায়, ‘আমি পরিবর্তনে বিশ্বাসী। সুযোগ পেলে দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চাই। শুধু বাহ্যিক নয়, মানুষের আত্মিক ও সামাজিক পরিবর্তনও দেখতে চাই।’

Check Also

বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য সরকার পরিবর্তন, নেহা বোরার ‘বাংলাদেশের আন্দোলন পথ দেখিয়েছে’ ভিডিও নিয়ে বিজেপি

বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ভারতে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ …

```html
আমাকে লাইক দিন
```
Premium SEO Backlinks
Premium SEO Backlinks