প্রথম মেসেজ রবিনের, ‘১৭’র আবরার ফাহাদ, মেরে বের করে দিবি দ্রুত, শিবির চেক দিতে বলছিলাম’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড নিয়ে তার ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বলেছেন, ‘হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা হিসেবে রবিনের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ সময় তিনি মামলার আসামিদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে হত্যার আগে আবরারকে সন্দেহ করা, মারধরের নির্দেশ দেওয়া, নির্যাতনে অংশ নেওয়া এবং আবরারের শারীরিক অবস্থার অবনতির পরও বিষয়টিকে ‘নাটক’ বলার মতো বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।’

আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি। তার পোস্টে রবিনের নিজের জবানবন্দি এবং একই মামলার আসামি ইফতি মোশাররফ সকালের জবানবন্দির বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

পোস্টে আবরার ফাইয়াজ জানান, রবিনের নিজের জবানবন্দি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৪ অক্টোবর শেরে বাংলা হলের ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট ১৫ ও ১৬ ব্যাচের মেসেঞ্জার গ্রুপে রবিন লেখেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে আবরারকে যাচাই করে শিবির প্রমাণিত হলে তাকে মেরে হল থেকে বের করে দিতে হবে। এ সময় আবরারের ফেসবুক মন্তব্যের স্ক্রিনশটও ওই গ্রুপে পোস্ট করেন রবিন।

পোস্টে আরও বলা হয়, ৬ অক্টোবর রাতে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে গিয়ে আবরারের মোবাইলে পাওয়া ভিডিও দেখেন রবিন। এরপর আবরারকে চশমা খুলতে বলে ডান হাতে তার গালে কয়েকটি জোরে চড় মারেন। রবিনের জবানবন্দি অনুযায়ী, এরপর মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন আবরারকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে আঘাত করতে শুরু করেন। অনিক সরকারও আরেকটি স্ট্যাম্প দিয়ে আবরারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন।

আসামি ইফতি মোশাররফ সকালের জবানবন্দির বরাত দিয়ে আবরারের ভাই লেখেন, রবিন আবরারের বিরুদ্ধে কী তথ্য পাওয়া গেছে, তা জানতে চান। আবরার শিবির করেন না বলার পরও রবিন তাকে শিবির আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘ও শিবির, ওরে পিটা।’ এ ছাড়া শিবির শনাক্ত করতে বেশি প্রমাণের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। বুয়েটে আর কারা শিবির করেন, আবরারের কাছ থেকে তাদের নাম বের করার নির্দেশও দেন রবিন।

আবরারের ভাইয়ের পোস্ট অনুযায়ী, রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আবার ২০১১ নম্বর কক্ষে গিয়ে আবরারকে মারধর হতে দেখেন রবিন। তার নিজের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পোস্টে বলা হয়, মাহমুদ সেতুর কথার পর অনিক সরকার ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে আবরারের মাথা বাদে পিঠ, পাঁজর, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে সর্বশক্তি দিয়ে আঘাত করতে থাকেন। এ সময় আবরার চিৎকার করে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিলেন। রবিনের জবানবন্দি অনুযায়ী, ইফতি মোশাররফ সকাল আবরারকে লাথি মারছিলেন এবং মুজাহিদুর রহমান স্কিপিং রোপ দিয়ে তার পায়ে আঘাত করছিলেন।

সকালের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, রাত আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে রবিন, অনিক ও জিয়ন কক্ষ থেকে বের হয়ে বাইরে থাকা ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ডাকেন। পরে রবিন সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মুজাহিদুর রহমান ও তানভীরকে আবরারের কাছ থেকে বুয়েটে আর কারা শিবির করেন, তাদের নাম বের করার নির্দেশ দেন। একই জবানবন্দি অনুযায়ী, রবিন ফোনে রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং রাসেল তথ্য বের করতে বলেছেন বলে জানান। এ সময় আবরারকে রবিন বলেন, তার জন্য ২০০ কিলোমিটার দূর থেকে মুন্না ভাই আসছেন।

প্রকাশ হওয়া স্ক্রিনশট

 

রবিনের নিজের জবানবন্দির বরাত দিয়ে আবরারের ভাই জানান, আবরার অসুস্থ হয়ে পড়েছেন খবর পেয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে যাওয়ার পথে তিনি জানতে পারেন, আবরারকে ২০০৫ নম্বর কক্ষে নেওয়া হয়েছে। পরে নিচে অন্যরা আবরারের অবস্থা খারাপ বলে জানালে রবিন বলেন, ‘তার কিছু হয়নি, সে নাটক করছে।’ সকালের জবানবন্দিতেও আবরারের অবস্থা খারাপ হওয়ার পর রবিনের এমন মন্তব্যের কথা উল্লেখ রয়েছে বলে পোস্টে দাবি করা হয়।

পোস্টে আরও বলা হয়, রবিন নিজের জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, তিনি মেহেদী হাসান রাসেলের ৩০১২ নম্বর কক্ষে গিয়ে ঘটনার বিষয়ে কথা বলেন। রাসেল আবরারকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে রবিন উল্লেখ করেন। পরে রবিন নিরাপত্তাকর্মীকে অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে এবং প্রভোস্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তার জবানবন্দি অনুযায়ী, অ্যাম্বুলেন্স ও প্রভোস্টদের আসতে দেরি হয়।

অন্যদিকে, সকালের জবানবন্দির বরাত দিয়ে আবরারের ভাই লেখেন, আবরারের অবস্থা গুরুতর হওয়ার পরও রবিন ও অনিক তাকে দেখে বলেন, তিনি ঠিক আছেন। পরে তারা ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিচে নামতে বলেন এবং আবরারকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নিচে নামানোর নির্দেশ দেন। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসক এসে আবরারকে মৃত ঘোষণা করেন।

Check Also

‘অসংখ্য ডিসেম্বর আসবে-যাবে, কিন্তু শেখ হাসিনা…’

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, অসংখ্য ডিসেম্বর আসবে-যাবে, কিন্তু শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন না। …

Premium SEO Backlinks
Premium SEO Backlinks