বগুড়ায় দুর্ঘটনায় পা হারানো শিক্ষার্থী মাহফুজকে কৃত্রিম পা দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

বগুড়ার শিবগঞ্জের মাহফুজ যখন পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী, তখন ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় ডান পা হারায় সে। এরপর কেটে গেছে ১০ বছর। ক্রাচে ভর করে প্রতিদিনের পথ চলতে হয়েছে তাকে। শারীরিক সীমাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই করেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছে মাহফুজ। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে সেই লড়াইয়ের অনন্য স্বীকৃতি পেয়েছে সে। এবার তার দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হলো; পেল নতুন একটি কৃত্রিম পা।
বৃহস্পতিবার বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাহফুজের ডান পায়ে সফলভাবে কৃত্রিম পা সংযোজন করা হয়। নতুন পায়ে ভর দিয়ে হাঁটতে শুরু করেছে সে। মাহফুজ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ঠাকুরপাড়া গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে। সে কিচক আইডিয়াল একাডেমি থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি শিবগঞ্জে জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মাহফুজের সংগ্রামের কথা জানতে পারেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সেখানে তিনি মাহফুজের উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাকে কৃত্রিম পা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আনা হলে মাহফুজকে কৃত্রিম পা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার ডান পায়ে কৃত্রিম পা সংযোজন করা হয়।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বগুড়ায় এসে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রথম মাহফুজের বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। ১০ বছর ধরে একটি পা ছাড়া সে চলাফেরা করেছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনার পর তিনি কৃত্রিম পা লাগিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেন এবং টিএমএসএস হাসপাতালের সহযোগিতায় সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নতুন পা পেয়ে উচ্ছ্বসিত মাহফুজ বলে, ‘আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। প্রধানমন্ত্রীর উপহার ও সার্বিক সহায়তা পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। প্রতিমন্ত্রী স্যার, শিক্ষক ও অভিভাবকদেরও ধন্যবাদ জানাই। তাঁরা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।’

মাহফুজের বাবা আব্দুল ওহাবও ছেলের কৃত্রিম পা সংযোজন এবং পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

মাহফুজের ইচ্ছা বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী সরকারি আজিজুল হক কলেজে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়া। এতদিন ক্রাচে ভর করে পথ চললেও এখন নতুন পায়ে ভর করে নিজের সেই স্বপ্নের দিকেই এগিয়ে যেতে চায় সে।