ব্যাংক থেকে ৭ লাখ টাকা তুলে গণনার সময় কৌশলে ৪ লাখ নিয়ে পালাল চোর

কুমিল্লার দেবিদ্বারে গ্রাহকের ছদ্মবেশে পূবালী ব্যাংকের শাখায় ঢুকে এক ব্যক্তির চার লাখ টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, ভুক্তভোগী টাকা গোনার সময় তার পাশে বসে থাকা এক যুবক সুযোগ বুঝে টাকার বান্ডিল নিয়ে ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যান।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটের দিকে পূবালী ব্যাংকের দেবিদ্বার শাখায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. জাকির হোসেন বাদী হয়ে ওই রাতেই দেবিদ্বার থানায় মামলা করেছেন।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও সিসিটিভি ফুটেজের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন যুবকটি বেশ কিছুক্ষণ ব্যাংকের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। তার সামনে টাকা জমা দেওয়ার নীল রঙের একটি ভাউচার এবং হাতে একটি খাম ছিল। ফলে তাকে দেখে সাধারণ গ্রাহক বলেই মনে হচ্ছিল।

এদিকে পারিবারিক প্রয়োজনে জাকির হোসেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ব্যাংক থেকে সাত লাখ টাকা উত্তোলন করেন। পরে তিনি স্ত্রী আয়শা আক্তার ও পুত্রবধূ পলি আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাংকের সোফায় বসে টাকা গুনছিলেন।

একপর্যায়ে এক হাজার টাকার চারটি বান্ডিলে চার লাখ টাকা গুনে পেছনে রেখে দেন তারা। এরপর বাকি টাকা গোনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন জাকির ও তার পরিবারের সদস্যরা।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ওই সময় সন্দেহভাজন যুবকটি তাদের পাশেই বসে ছিলেন। কয়েকবার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করার পর একপর্যায়ে পেছনে রাখা চার লাখ টাকার বান্ডিলটি তুলে নিয়ে দ্রুত ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যান তিনি। তখনো জাকির ও তার পরিবারের সদস্যরা বাকি টাকা গুনছিলেন।

টাকা গোনা শেষ করে পেছনে রাখা বান্ডিলটি না পেয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান জাকির। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে টাকা চুরির ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হন ব্যাংক কর্মকর্তারা।

জাকির হোসেন বলেন, পারিবারিক প্রয়োজন মেটাতে ব্যাংক থেকে সাত লাখ টাকা তুলেছিলেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে টাকা গোনার সময় চার লাখ টাকা আলাদা করে পেছনে রাখেন। পরে সেটি আর খুঁজে না পেয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন এবং একজনকে টাকা নিয়ে যেতে দেখেন।

ব্যাংকের ভেতর থেকে এভাবে টাকা চুরির ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

পূবালী ব্যাংকের দেবিদ্বার শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. ওয়ায়েছ মাসুম চৌধূরী বলেন, গ্রাহকের টাকা চুরির খবর পাওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, টাকা উত্তোলনের পর কয়েকজন মিলে তা গুনছিলেন। একপর্যায়ে টাকা গুনে পেছনে রাখার সময় তারা আশপাশে নজর রাখেননি। সেই সুযোগে এক ব্যক্তি পেছন থেকে টাকার বান্ডিল নিয়ে চলে যান।

ব্যাংকের ভেতরে চুরির ঘটনায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কোনো দায় আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ক্যাশ কাউন্টার থেকে টাকা বুঝে নেওয়ার পর সাধারণত ব্যাংকের দায় থাকে না। তবে গ্রাহক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ায় তদন্তে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ব্যাংকের ভেতর থেকে গ্রাহকের টাকা চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।