সম্মাননা পেলেন নবজাতক উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্য সালমান

আগুন ও ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হাসপাতালের ১০ তলা থেকে মাত্র দুই দিনের এক নবজাতককে উদ্ধার করে আলোচনায় আসা সাতক্ষীরা পুলিশ লাইনসে কর্মরত কনস্টেবল মো. সালমানকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

সাহসিকতা ও মানবিকতার এই ঘটনা নিয়ে গত ৫ আগস্ট কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৭ আগস্ট) তাকে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নগদ অর্থ ও সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের নগদ অর্থ ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন সাতক্ষীরা জেলার পুলিশ সুপার।

পুরস্কার পাওয়ার পর অনুভূতি প্রকাশ করে কনস্টেবল মো. সালমান বলেন, ‘ওই সময় আমি নিজের জীবনের কথা ভাবিনি। শুধু মনে হয়েছিল, ১০ তলায় একটি ছোট্ট শিশু আটকা পড়ে আছে, যেভাবেই হোক তাকে উদ্ধার করতে হবে।

শিশুটিকে নিরাপদে বের করে আনতে পেরেছিলাম, সেটিই ছিল আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।’
তিনি বলেন, ‘কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি মানুষের নজরে এসেছে এবং আজ যে সম্মাননা পেলাম, এতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এই সম্মাননা আমার দায়িত্ব পালনে আরো বেশি সাহস ও অনুপ্রেরণা দেবে।’

গত ৪ আগস্ট দুপুরে সাতক্ষীরার ব্লিস হাসপাতালের বেজমেন্টে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

মুহূর্তেই আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে ১০ তলা ভবনজুড়ে। আতঙ্কে রোগী, স্বজন ও হাসপাতালের কর্মীরা নিরাপদে বের হওয়ার জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন।
এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই খবর আসে, হাসপাতালের ১০ তলায় মাত্র দুই দিনের একটি নবজাতক আটকা পড়ে আছে। খবর পেয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ লাইনসে কর্মরত কনস্টেবল মো. সালমান নিজের জীবনের কথা না ভেবে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ভবনের ভেতরে ছুটে যান। পরে বহু কষ্টে নবজাতকটিকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদে নিচে নিয়ে আসেন।

এরপর শিশুটিকে পার্শ্ববর্তী আনোয়ারা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
আগুনের খবর পেয়ে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ, পুলিশ লাইনস, ট্রাফিক পুলিশ ও ডিএসবি সদস্যরা ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা একে একে হাসপাতালে ভর্তি রোগী, তাদের স্বজন ও হাসপাতালের কর্মীদের নিরাপদে বের করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী রক্ষায়ও কাজ করেন তারা।

তবে ধোঁয়া ও আগুনের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুই দিনের নবজাতককে উদ্ধার করার ঘটনাটি দ্রুতই সবার নজরে আসে। এ নিয়ে কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়ায় গত ৫ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। প্রশংসায় ভাসেন কনস্টেবল সালমান। তার সাহসিকতা ও মানবিকতার ঘটনাটি সাতক্ষীরার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মানুষের নজর কাড়ে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাহসিকতা, মানবিকতা ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি দিতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নবজাতক উদ্ধারে সাহসিকতার পরিচয় দেওয়া কনস্টেবল মো. সালমানকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. আমিনুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহীনুর চৌধুরী, সহকারী পুলিশ সুপার (দেবহাটা সার্কেল) মো. বায়েজীদ ইসলাম, পুলিশ হাসপাতাল সাতক্ষীরার ডা. আবু হোসেনসহ সব থানার অফিসার ইনচার্জ, ডিআইও-১, টিআই (অ্যাডমিন), কোর্ট ইন্সপেক্টর এবং জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।