বজ্রপাতে হারিয়েছেন স্বামীকে, এবার পাহাড়ি ঢলে ভিটেও হারালেন রাবেয়া

এক যুগ আগে বজ্রপাতে স্বামীকে হারিয়েছিলেন রাবিয়া খাতুন। সেই শোক কাটিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে নতুন করে বাঁচার লড়াই শুরু করেছিলেন তিনি। দিনমজুরের কাজ করে কখনো মানুষের বাড়িতে, কখনো মাঠে-ঘাটে শ্রম দিয়ে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন। নিজের কষ্টের কথা না ভেবে চেষ্টা করেছেন সন্তানদের মানুষ করতে।

তাহিরপুর উপজেলার উত্তরশ্রীপুর ইউনিয়নের চারাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা রাবিয়া খাতুনের জীবনে এবার নেমে এসেছে আরেক দুঃসহ দুর্যোগ। পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে গেছে তার শেষ আশ্রয়টুকুও। ঘরের ভিটের মাটি ক্ষয়ে গেছে, ভেঙে পড়েছে ঘরের টিনের বেড়া। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে এখন মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।

স্বামী মারা যাওয়ার পর একাই দুই সন্তানকে বড় করেছেন রাবিয়া। বড় মেয়ে সামিয়াকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়িয়েছেন। কিন্তু অভাবের সংসারে আর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরে মেয়েকে বিয়ে দেন। বর্তমানে সামিয়া স্বামীর সংসারে ভালো আছেন।

ছোট ছেলে সাবিবুল হাসান তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। ছেলেকে পড়াশোনা করিয়ে মানুষের মতো মানুষ করার স্বপ্ন দেখেন রাবিয়া। নিজের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের বিনিময়ে সেই স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছেন এতদিন।
একসময় স্বামীকে হারিয়েছিলেন রাবিয়া। এবার হারালেন নিজের মাথা গোঁজার ঠাঁই। জীবনের প্রতিটি বাঁকে লড়াই করে টিকে থাকা এই নারী এখন শুধু একটি নিরাপদ ঘরের অপেক্ষায়। তার চোখে সন্তানকে মানুষ করার স্বপ্ন, আর মনে নিজের একটি ছোট্ট ঘরে ফিরে যাওয়ার আকুতি।