গ্যাসের দাম বাড়ালে আমরা পেট্রোবাংলা ঘেরাও করব: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে পেট্রোবাংলা ঘেরাও করা হবে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের রায় অস্বীকার করে এবং দমন-পীড়ন চালিয়ে বর্তমান সরকারকে কোনোভাবেই পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার সুযোগ দেওয়া হবে না। শুক্রবার রাতে রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত তরুণ আলিফ চৌধুরীকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।

হবিগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে আলিফ নামের ওই তরুণের একটি চোখের দৃষ্টি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে এবং অন্য চোখটিও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানান নাহিদ। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষতিগ্রস্ত চোখে দৃষ্টি ফেরার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তবে মেডিকেল বোর্ডের সভার পর তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। টানা তিন দিন পার হলেও সরকারের পক্ষ থেকে আহত এই তরুণের কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে সরকারি বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় থাকা ছাত্রদল ও যুবদলের সন্ত্রাসীরা দিনের আলোতে এই হামলা চালিয়েছে। এতে হবিগঞ্জ সদর থানা ছাত্রদলের সদস্যসচিব জড়িত থাকলেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়নি। জি কে গউসের অনুসারীদের দ্বারা সংঘটিত এই হামলায় পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নেই। তারেক রহমান নিজ দল পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছেন, তাই ১৮ কোটি মানুষের দেশ পরিচালনাও তার পক্ষে সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এনসিপি আহ্বায়ক জানান, শুধু সিলেট বা হবিগঞ্জ নয়; কুড়িগ্রাম, সাভার ও কেরানীগঞ্জসহ সারা দেশে এনসিপি, ছাত্রশক্তি ও যুবশক্তির কর্মসূচিতে সরকারি দল পরিকল্পিতভাবে বাধা দিচ্ছে। বিরোধী মত দমনে সরকার পূর্ববর্তী শেখ হাসিনা সরকারের মতোই ফ্যাসিবাদী আচরণ করছে। মাত্র পাঁচ মাসেই বর্তমান সরকারের অগণতান্ত্রিক ও সন্ত্রাসী চরিত্র উন্মোচিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের ১২টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক বসিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকটের চিত্র তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার বিদ্যুৎকেন্দ্রে
ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ১৬ টাকা থেকে ২৫ টাকা এবং সিএনজির দাম ৪২ টাকা থেকে ৬৫ টাকা করার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় চরমভাবে বৃদ্ধি পাবে। দেশে বিনিয়োগ কমছে এবং ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত প্রশাসনিক হয়রানি ও চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। সাধারণ মানুষ গ্যাস না পেয়েও নিয়মিত বিল পরিশোধ করছে। এই পরিস্থিতিতে আবাসিকসহ যেকোনো খাতে গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে অবিলম্বে পেট্রোবাংলা ঘেরাও কর্মসূচিসহ ঢাকার সাধারণ মানুষকে নিয়ে রাজপথে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি।