আ. লীগের রাজনীতি দাফন হয়েছে দিল্লিতে : রাশেদ খান

গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) রাজনীতি শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি দিল্লিতে দাফন হয়ে গেছে।

শেখ হাসিনা পালিয়ে না গেলে অন্য কিছু হতে পারতো। তবে যেহেতু সে পালিয়ে গেছে, তার মানে আওয়ামী লীগ আর দেশের রাজনীতিতে ফিরতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস হয় না।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও জেলার সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

এনসিপি ও জামায়াতের রাজনীতির সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, এনসিপি বাংলাদেশে নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির কথা বলে নতুন ভণ্ডবস্তের রাজনীতি শুরু করেছে।

এনসিপিকে বলব, গঠনমূলক রাজনীতি করুন। এনসিপির রাজনীতি এখন জামায়াতের পরামর্শে পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করেন রাশেদ খান।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের নানা দিক তুলে ধরে রাশেদ খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিহিংসার রাজনীতি করেন না। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের বারবার প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী এর আগে বলেছেন, তার মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এখন কারো মেরুদণ্ড ভাঙতে চান না। প্রধানমন্ত্রী বারবার বলছেন, দেশটা সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে গড়তে হবে।প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী বলেন, আমরা লক্ষ করছি, এনসিপির কিছু নেতাকর্মী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণীকে নিয়ে কটূক্তি করে বেড়াচ্ছে। জুলাই পদযাত্রায় এনসিপির নেতারা স্থানীয় এমপি, মন্ত্রীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করছে। এভাবে যদি তারা কথা বলে, তাহলে আপনি কতজন নেতাকর্মী সমর্থককে নিয়ন্ত্রণ করবেন? যারা একজন এমপিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে, তাদের সামনে গিয়ে তাদের এমপিকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করবেন, আর মানুষ আপনাদের ছেড়ে দেবে।

সিলেটের মানুষ, হবিগঞ্জের মানুষ সেই জায়গা থেকেই প্রতিবাদ করেছে।ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, শেখ হাসিনা অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। সে যদি নেতাকর্মীদের দেশে রেখে বিদেশে পালিয়ে না যেত, তাহলে অন্যকিছু হতে পারত। কিন্তু পালিয়ে গেলে আর ফেরা যায় না। কারণ, হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার কারণে দেশে তাদের নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে গেছে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি দিল্লিতে দাফন হয়ে গেছে।

সভায় জেলার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাসহ মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের পরামর্শ দেন রাশেদ খান। সেই সঙ্গে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক প্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান। সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সুধীজনরা অংশ নেন।