জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সংসদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ করেছেন তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। একই সঙ্গে বিষয়টি গোপন রাখতে ওই তরুণীর বাবা মাসুম বিল্লাহকে ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ করেন ওবায়দুর রহমান।
ওবায়দুর জানান, টাকার আশায় তরুণীর মা-বাবা শুরুতে এ সম্পর্কের বিরোধিতা করেননি। তিনি আরও দাবি করেন, তরুণীর বাবা মাসুম বিল্লাহ তাকে বলেছিলেন, ‘এমপিকে হাতে রাখতে হবে। পাঁচ বছরে আমাদের অনেক কিছু করে নিতে হবে।’
সম্পর্কের বিষয়ে ওবায়দুরের পরিচয়ও রয়েছে। তিনি জানান, ওই তরুণী তার ভাগনি এবং মেয়েটির বাবার সূত্রে গাজী নজরুল তার আত্মীয় হন। বর্তমানে তিনি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেছেন।
সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে দেখা যাওয়া তরুণীকে পরে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন গাজী নজরুল। একই সময় তিনি অভিযোগ করেন, ১৩ জুলাই ওই তরুণীর বাবার কার্যালয়ে তাকে জিম্মি করে অর্থ আদায় করা হয় এবং ভিডিও ফাঁসের পেছনে ওবায়দুর রহমান জড়িত।
অন্যদিকে, ২১ জুলাই রাজধানীর পল্লবী থানায় গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন ওবায়দুর রহমান। তার অভিযোগ, ভাগনির সঙ্গে এমপির ‘অনৈতিক সম্পর্কের’ প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় সন্দেহের জেরে ১৪ জুলাই তার ওপর হামলা চালানো হয়।
ওবায়দুর রহমানের দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ থেকেই ঢাকার পল্লবীতে ওই তরুণীর বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল গাজী নজরুলের। এমনকি এমপি হোস্টেলে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাওয়ার পরও ঢাকায় এলে তিনি ওই বাসাতেই অবস্থান করতেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্য হওয়ার পর গাজী নজরুল মাসুম বিল্লাহর নামে ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’ নামে প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি লাইসেন্স করে দেন। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার দায়িত্বও নিজেই নেন এবং ব্যাংক ঋণের আশ্বাস দেন বলে দাবি করেন ওবায়দুর। তার ভাষ্য, সাতক্ষীরায় এলজিইডি ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কয়েকটি প্রকল্পে দরপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল এবং একটি পদে অনুকূল প্রকৌশলীকে বদলি করতেও এমপি তদবির করেছিলেন।
ভিডিও ধারণের প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন ওবায়দুর। তিনি দাবি করেন, এমপির নির্দেশে একটি বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা থাকলেও তিনি প্রমাণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সেখানে গোপনে একটি রেকর্ডিং ডিভাইস স্থাপন করেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি ডিভাইসটি নিয়ে বেরিয়ে আসেন। এরপর কয়েকজন ব্যক্তি এমপি ও তরুণীকে আটকে অর্থ দাবি করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ওবায়দুরের দাবি, তরুণীকে সংসদে চাকরি এবং তার বাবাকে বড় বড় সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন পুরো বিষয়টি পরিচালিত হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ২০ জুন এমপি হোস্টেলে গিয়ে সম্পর্কের বিষয়ে প্রশ্ন তুললে গাজী নজরুল সেটিকে ‘মুতআ বিয়ে’র ব্যাখ্যা দিয়ে বৈধ বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে তার মুখ বন্ধ রাখতে একটি গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ এবং এমপির এপিএস-২ (সহকারী একান্ত সচিব) হিসেবে পরিচয় দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে ভিডিও প্রকাশের পর গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রীর পাশাপাশি ওই তরুণীও ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, ২০২৬ সালের ১৭ জুন সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়েছে এবং বিয়েতে গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ১৩ জুলাই ঢাকার মগবাজারে তার বাবার কার্যালয়ে পরিকল্পিতভাবে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। পরে স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
তবে ওবায়দুর রহমানের এসব অভিযোগের বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলামের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
