Breaking News
Home / Study Care / ‘ভাইভা মাইন্ড গেম, নিয়ন্ত্রণটা নিজের কাছে রাখুন’

‘ভাইভা মাইন্ড গেম, নিয়ন্ত্রণটা নিজের কাছে রাখুন’

বিসিএসে আমার ফার্স্ট চয়েস ছিল প্রশাসন ক্যাডার। এ থেকেই বেশি প্রশ্ন করেছিলেন ভাইভা বোর্ডের সদস্যরা। সাধারণত ফার্স্ট চয়েস এবং সেকেন্ড চয়েস থেকেই প্রশ্ন করা হয়। প্রতিটি ক্যাডারেরই কিছু টেকনিক্যাল টার্ম থাকে। যেমন প্রশাসন ক্যাডারের বেলায় প্রশাসনের স্তর সম্পর্কে জানতে চাইতে পারে। পুলিশ ক্যাডারের বেলায় জিজ্ঞেস করতে পারে পিআরবি, আইজিপি কী? এ ধরনের প্রশ্ন করে ভাইভা বোর্ড দেখতে চায়, আপনি যে ক্যাডারে যেতে চান সে সম্পর্কে আপনার ন্যূনতম ধারণা আছে কি না। আসলেই আপনি সে ক্যাডারে কাজ করতে চান কি না।

ধরুন, আপনি ফরেন ক্যাডারে যেতে চান। তাহলে ফরেন ক্যাডারের কিছু টেকনিক্যাল টার্ম যেমন স্টাফ, অ্যাম্বাসাডর, কনস্যুলার, হাইকমিশন এ ধরনের কিছু প্রশ্ন আপনাকে করতেই পারে। আপনি এ ক্যাডার কেন পছন্দ করেছেন বা কেন এ ক্যাডারে যেতে চাচ্ছেন-এ প্রশ্নটিও করা হতে পারে। প্রতিটি ক্যাডারের পক্ষেই জোরালো যুক্তি আছে। দেশের জন্য কাজ করবেন এই চিন্তা সামনে রেখে আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর সাজাবেন। আপনার পছন্দের কারণটা সুন্দর করে গুছিয়ে বললেই চলবে। বাজারে বিভিন্ন বই পাওয়া যায়। সেগুলো দেখলে এ বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে। ভাইভায় আরেকটা কমন ব্যাপার হলো, বাংলাদেশের ইতিহাস বিশেষ করে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে প্রশ্ন থাকবেই। অনার্সের বিষয় সম্পর্কিত প্রশ্ন করতে পারে। যেমন ভূগোলের ছাত্র হলে আপনাকে মানচিত্র, বিভিন্ন দেশের অবস্থান সম্পর্কিত প্রশ্ন করতে পারে।

কোনো একটি বিষয় ধরে পরীক্ষকরা বলতে পারেন আপনি এই বিষয় সম্পর্কে ইংরেজিতে বলুন। ইংরেজিতে প্রশ্ন করলে স্বাভাবিকভাবেই ইংরেজিতে উত্তর দিতে হবে। আমরা সবাই কমবেশি ইংরেজি জানি। কিন্তু অনেকেরই বলার অভ্যাস নেই। এ জন্য দেখা যায় ভাইভা বোর্ডে গিয়ে অনেকে নার্ভাস হয়ে যান। কথা বলতে গেলে এক ধরনের জড়তা চলে আসে। এটা কাটিয়ে ওঠার জন্য ইংরেজিতে বলার প্র্যাকটিস করতে হবে।

অনেক সময় বলতে পারে অমুক কবিতাটা বা অমুক ছড়াটা বলুন। এ ক্ষেত্রে খুব পরিচিত কবিতা বা ছড়াই জানতে চায় সাধারণত। জিজ্ঞেস করতে পারে কোন কবিতা সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে? কেন? কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনাও। কোন জিনিসটা তুমি ভালো পারো-এ ধরনের প্রশ্নও করতে পারে।

ভাইভা বোর্ডে নার্ভাস হওয়া যাবে না। আপনি একটি প্রশ্নের উত্তর না-ও পারতে পারেন। এটা দোষের কিছু নয়। আপনার সবই পারতে হবে-এমন কোনো কথা নেই। পারলে ভালো। না পারলে মুখে হাসি রেখেই বলবেন, দুঃখিত, আমি এখন মনে করতে পারছি না বা আমার এখন মনে আসছে না।

অনেক সময় কিছু চিকি প্রশ্ন করে মানসিক শক্তি, ধৈর্য ইত্যাদি পরীক্ষা করার জন্য। এ বিষয়গুলো লাইটলি হ্যান্ডেল করতে হবে।

মুখে সব সময় হাসি রাখবেন। আপনার মুখে যদি একটু হাসি ভাব থাকে তাহলে আপনার বিপরীতে ভাইভা বোর্ডে যাঁরা থাকবেন তাঁদের মুখেও হাসি থাকবে। হাসিমুখে থাকলে টেনশন অনেক কমে যায়। এতে পরিবেশটা আপনার অনুকূলে চলে আসবে। ভাইভা বোর্ডে আমার মুখে সব সময় হাসি ছিল। ফলে তাঁরাও হাসিমুখেই প্রশ্ন করেছিলেন। এতে পরিবেশটা বেশ স্বস্তিদায়ক হয়েছিল।

ভাইভার দিন আমার সিরিয়াল ছিল সবার শেষে। ক্রমান্বয়ে টেনশন বাড়ছিল। কেউ কিছুক্ষণ পরই, কেউ কেউ ৩০-৪০ মিনিট পর বের হয়ে আসছিলেন। মনে হচ্ছিল, এত সময় কিভাবে কাটাব! পরে ভাইভা বোর্ডে মুখোমুখি হয়ে বুঝতে পারলাম এটা কোনো বিষয়ই না।

ভাইভা একটা মাইন্ড গেম। এতে পাস-ফেল নির্ভর করে আপনি নিয়ন্ত্রণ কার কাছে রাখবেন তার ওপর। আমি প্রশ্নগুলোর এমনভাবে উত্তর দিয়েছিলাম যেন আমার উত্তর থেকেই ভাইভা বোর্ডের সদস্যরা পরবর্তী প্রশ্ন করেন। তখন ভাইভাটা হয়ে গেছে ডিসকাশন টাইপের। এভাবে ৩০ মিনিটের মতো কেটে গিয়েছিল। পুরো সময়টাতে সহজ থাকার চেষ্টা করেছি। আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কেন এই ক্যাডারে আসতে চাই। আমার হাজব্যান্ড পুলিশ ক্যাডার জেনে প্রশ্ন করেছিলেন, হাজব্যান্ড যদি ডিসি হন আর আপনি এসপি হন তাহলে আপনি সেটা কিভাবে ম্যানেজ করবেন? আমি হেসেই বলেছিলাম, স্যার, কোনো অসুবিধা হবে না। ওটা তো প্রফেশনাল লাইফ আর অন্যটা পারসোনাল লাইফ। দুটি সেপারেট। আমার নিজ জেলা, জেলার কয়েকজন উল্লেখযোগ্য নারীর নাম বলতে বলেছিলেন। জিজ্ঞেস করেছিলেন, এখন কতজন মহিলা সিনিয়র সচিব আছেন।

ছেলেদের সাদা শার্ট কালো প্যান্টে ভালো দেখায়। মেয়েদের জন্য ফরমাল ড্রেস পরলেই ভালো। অনেককে শাড়ি পরেও যেতে দেখেছি। আপনি যেটাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন সেটাই পরবেন। ওভার স্মার্টনেস দেখানোও কিন্তু বোকামি।

নেহাত আত্মবিশ্বাসের অভাবে অনেকে বাদ পড়ে যান। মৌখিক পরীক্ষার বাধাটা জয় করতে চাইলে সবার আগে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। এখন নতুন করে পড়ার তেমন কিছু নেই। জানা বিষয়গুলোতে চোখ বুলিয়ে নিলেই চলবে। দেশ-বিদেশে ঘটে যাওয়া সমসাময়িক ঘটনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। এ জন্য নিয়মিত দৈনিক পত্রিকা পড়বেন। পত্রিকা থেকে অনেক প্রশ্ন করা হয়। পারলে ভাইভার দিনের পত্রিকাতেও চোখ বুলিয়ে যাবেন। আবার বলব নিজের ওপর আস্থা রাখুন। হাসিখুশি থাকুন। ভাইভা বোর্ড আপনার পক্ষেই কথা বলবে।

About pressroom

Check Also

এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বুধবার

করো’না ভাইরাসের কারণে এ বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত পহেলা এপ্রিল শুরু হওয়ার কথা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by keepvid themefull earn money