Breaking News
Home / Onno Rokom / বিমানের এই ৬ টি তথ্য আপনাকে বলবে না

বিমানের এই ৬ টি তথ্য আপনাকে বলবে না

আপনি কি বিদেশ যাওয়ার কথা ভাবচ্ছেন? কম সময়, আরাম এবং কম ঝামেলার জন্য আজকাল অনেকেই বিদেশে বিমানে যেতে পছন্দ করেন। বিমানে চড়া আজকাল আর খুব বড় কোনো ব্যাপার নয়৷ অনেক সময় কাজের প্রয়োজনে, বেড়াতে বা চিকিৎসার প্রয়োজনে অনেকেই যাচ্ছেন বিভিন্ন দেশে বিমানে চড়ে৷ কারণ এখন বিমান যাত্রা সবচেয়ে বেশি দ্রুত ও আরামদায়ক। তাই নিত্য এই যাত্রায় যে বারটি জিনিস করা ভুলেও উচিত নয়।আপনি যদি বিমানে উঠে এসব কাজ করে থাকেন তবে পরবর্তী ভ্রমনে এই কাজগুলো করা থেকে বিরত থাকা আপনার উচিত। তাই এসব ব্যাপারে আমাদের সচেতন হওয়া উচিত।

১.বিমান ওঠা এবং নামার সময় ঘুমানো:

বিমান উঠা এবং নামার সময় আমরা অনেকেই ঘুমিয়ে পরি। কিন্তু এটা মোটেও ঠিক না। কারন যখন বিমান ওঠে এবং নামে তখন বিমানের ভিতরে চারপাশের বাতাস দ্রুত পরিবর্তিত হয়। যদি আপনি এর আগে ভ্রমন করে থাকেন তবে জানবেন যে এটা সবচেয়ে অসস্তিকর কিন্তু এটা ক্ষনস্থায়ী। এই অবস্থা ঠিক করতে আপনার উচিত হবে চুইং গাম কিম্বা চকলেট খাওয়া। এক কথায় আপনাকে জেগে থাকতে হবে। অন্যথায় ঘুমের মধ্যে যদি হঠাৎ আপনার আশেপাশের আবহাওয়া পরিবর্তিত হয় তবে এটা আপনাকে আরো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে। এমনকি আপনার মাথা ঘোরা, কানে ইনফেকশন, সামান্য শোনার সমস্যা, কানের সাময়িক ক্ষতি, নাক দিয়ে রক্ত পরা ইত্যাদি সমস্যা হরেত পারে। তাই বিমান ওঠা কিম্বা নামার সময় না ঘুমিয়ে এ সময়ের অবস্থার মোকাবেলা করা খুব জরুরী।

২.বিমান ওঠা এবং নামার সময় বসে থাকা:

বাতাসের কম চাপ থাকার কারনে আপনার শরীরের রক্ত প্রবাহ কম হতে পারে এবং আপনার পায়ে রক্ত জমাট বাধতে পারে। যদি আপনি জন্ম বিরতীকরন পিল খেয়ে থাকেন তবে এ সমস্যা আরো প্রকট হতে পারে। এ অবস্থা থেকে বাঁচতে আপনার পায়ের গোড়ালী মেঝে থেকে উপরে ওঠান এবং আপনার পাগুলো মুড়িয়ে নিন এবং মুক্তভাবে ছেড়ে দিন। এভাবে কিছু সময় পরপর করুন। এভাবে কিছু সময় পরপর ব্যয়াম করলে আপনি এ সমস্যা থেকে সময়িক মুক্তি পেতে পারেন।

৩.দিনের বেলা ঝিমানো:

বিমানে দিনের বেলা ঝিমানো ঠিক নয় কারন এতে আপনার টাইম জোন সমন্বয় করতে বেগ পেতে হবে। সময় ঠিক না করার কারনে আপনার ঘড়ি যদি বলে যে এটা ঘুমানোর সময় এবং সে অনুযায়ী যদি আপনি ঘুমিয়ে পরেন তবে এটা আপনার অসুবিধার কারন হতে পারে। নাশনাশ স্লিপ ফাউন্ডেশন এর মতে, বিমান বোর্ডের টাইম জোন অনুযায়ী আপনার ঘড়ির সময় পরিবর্তন করে নিন। যদি ঘড়ির সময়সূচি ঠিক করে না নেন তবে আপনার ভুল হবার সম্ভাবনাই বেশী হবে।

৪.পানীয় খাওয়া:

বিমান কেবিনের আবহাওয়া খুবই খরাপ হয়। সাধারনত বিমানের আবহাওয়া খুবই রুক্ষ হয়ে থাকে। এই কারনে আপনার শরীর সব সময় ময়শ্চারাইজার হারাতে থাকে। এজন্য বিমানে প্রয়োজন অনুযায়ী পানীয় পান করা যেতেই পারে।

৫.চা অথবা কফি ওর্ডার করা:

বিমানে চা বা কফি জাতীয় কিছু পান করা মানে সমগ্র পানীয়কে অপমান করার নামান্তর। কারন এখানকার চা বা কফি তৈরী হয় বিমানের টাপের পানি দিয়ে। ২০১২ সালের ইনভাইরনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সির রিপোর্ট অনুযায়ী, ১২ শতাংশ বিমানের চা বা কফি তৈরী হয় টাপের পানি দিয়ে যাতে থাকতে পারে কলিফর্ম বা ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদির মত জীবানু দিয়ে। যা আপনার জবিন নাশেরও কারন হতে পারে। আপনি যত বেশী এগুলো খাবেন তত বেশী আপনার প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। আপনার শরীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষ মতা হারাবে। এবং এটাই আপনার শরীরকে অসুস্থ করবার জন্য যথেষ্ট হবে।

৬.বাবলসহ পানীয় পান করা:

অ্যরোস্পেস মেডিকেল অ্যসোসিয়েসন এর রিপোর্ট অনুযায়ী বাতাসের চাপের পরিবর্তনের কারনে ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে আপনার শরীরে অ্যসিডিটি তৈরী করে। এছাড়া বিমানে আপনি যে সোডা জাতীয় পানি পান করেন তাতে যথেষ্ট পরিমানে বাবল থাকে। এই বাবল বা বুদবুদ করা পানীয় আপনার শরীরে অস্থস্থি হয় এমন কারনকে বেড়ে দেয়। তাই নিজের শরীরকে হালকা রাখতে এসকল পানীয় থেকে দূরে থাকুন।

৭.প্রচুর মদ পান না করা:

প্রচুর মদ্যপান আপনাকে বিমানে ঘুমাতে সহায়তা করলেও এটা আপনার ঘুমের গুণগত মানের বিঘ্ন ঘটাতে পারে। এটি আপনার শরীরকে পানিশূন্য করে ফেলবে। ফলে আপনার শরীর দূর্বল লাগবে এবয় মনটা খিটখিটে হবে। এবং অপ্রীতিকর পরিনাম আপনাকে বিরক্ত করে ফেলবে যা আপনার শরীরকে অলস করে তুলবে।

৮.খাদ্যে অনিহা:

আপনার ক্ষেুধা পেলে খাবেন এটাই স্বাভাবিক, সেটা বিমানে হোক আর যেখানেই হোক না কেন। কিন্তু বিমানে আপনি এটা পারবেন না কারন, মাটিতে থাকাকালীন আপনি যা করতে পারতেন এখানে তা পারছেন না। বিমানে খেতে আপনাকে খুবই বিরক্তিকর মনে হবে। কারন আপনি খাওয়ার স্বাদ হারিয়ে ফেলবেন। একটা জার্মান গবেষনায় বলা হয় যে, শুষ্ক কেবিন এবং বাতাসে কম চাপ আপনার খাওয়ার অনুভূতি কমিয়ে দেবে ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ। এখনে আপনার খাওয়ার সময় নোনতা এবং মিস্টি স্বাদের অনুভূতি কমে যাবে ফলে আপনি এগুলো খেতে পারবেন না। আপনার ভাল লাগবে না। তাছাড়া এখনে শব্দ দূষনও অনেক হয়। কর্নেল ইউনির্ভাসিটির এক গবেষনায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, পরিবেশগত সমস্যার জন্য আপনি আপনার স্বাদের অনুভূতি হারাবেন। তবে কিছু কিছু বিমানে নোনতা খাবারও পরিবেশন করা হয়।

৯.খাবার পরে ট্রে না ফেলা:

টুডে শো নামক ইনভেস্টিগেটিং টিম তিনটি ভিন্ন ভিন্ন দেশের বিমানে দেখে যে বিমানের ট্রে টেবিলে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকে। কারন যাত্রীরা খাওয়া ছাড়াও বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে থাকেন। এসব কারনে বিমানের কাজে নিয়োজিত লোকজনেরা এসব কারনে যাত্রীদের দোষ দেন। তারা বলেন যাত্রীরা এটিকে বাচ্চাদের কাপড় পরিবর্তনের কাজে ব্যবহার করে থাকেন। এসব কাজ বিমানে না করাই ভাল।

১০.সিট বেল্ট বেধে হইচই করা:

টুডে শো ইনভেস্টিগেটিং টিম আরো জানায় বিমানের সিট বেল্টগুলোতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকে। বিমানে আপনাকে সিট অবশ্যই বাঁধতে হবে। আর সিট বাঁধতে গেলে আপনাকে তা ধরতে হবে। তাই বেন্ট বাধার পর আপনাকে জীবানুনাশক দিয়ে হাত ধুতে হবে।

১১.খালি পায়ে হাটা:

আপনি যখন বিমানে ঘন্টার পর ঘন্টা কিম্বা সারারাত থাকবেন তখন সেটাকে বাড়ির মত মনে করলে সে হয়ে ওঠে উপভোগের। বিমান পরিচালকেরা বলেন বিমানের মেঝে নোংড়া থাকতে পারে।
অনেকেই বিমানে উঠে জুতা, এমনকি মোজাও খুলে ফেলেন। এটা অনেকের জন্যই বিরক্তিকর। আর খালি পায়ে বিমানের টয়লেট ব্যবহার করলে রোগজীবাণু আক্রান্তের আশঙ্কা বেড়ে যায় সুতরাং বিমানে জুতা পরেই থাকুন।

১২.যতক্ষন থাকবেন এটি ধরে থাকবেন:

আপনি যতক্ষন বিমানে থাকবেন এসব বিষয় মেনে চলবেন। কিন্তু যদি আপনার টয়লেট যাবার প্রয়োজন পরে তবে, আপনি বিমানের বাথরুম ব্যবহার করবেন। নতুবা আপনার মুত্রথলিতে সমস্যা হবার সম্ভাবনা থাকবে। এটিতে ইনফেকশন হতে পারে। এবং ব্যাথা হতে পারে।

About pressroom

Check Also

ম’য়’মন’সিং’হে ৩ হি’ন্দু যু’বকের ই’সলাম গ্রহন

ইসলাম শিক্ষা দেয় যে আল্লাহ দয়ালু, করুনাময়, এক ও অদ্বিতীয়। ইসলাম মানব জাতিকে সঠিক পথ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by keepvid themefull earn money