১০ বলে ৫০ করে দল পেয়ে গেলেন তাও আবার শাহরুখের দলে

১০ বলে ৫০ করে দল পেয়ে গেলেন তাও আবার শাহরুখের দলে

এবারের আইপিএল নিলামে দলগু’লোকে আগামী তিন মৌসুমের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। যে কারণে দলগু’লো বর্তমানের জন্য দল গঠনের পাশাপাশি ভবি’ষ্যতের দিকে তাকিয়ে ছিল। ফ্র্যাঞ্চাইজিগু’লো অনেক নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের জন্য প্রচুর অর্থ ঢেলে দিয়েছে।

শাহরুখ খানের কলকাতা নাইট রাইডার্স, বাবা ইন্দ্রজিৎ, চমিকা করুণারত্নে, আমান খান, অশোক শর্মা, অ’ভিজিৎ তো মর’, রাশিখ সালাম, প্রশোতম সিং-এর মতো অনেক অচেনা মানুষ কলকাতা শিবিরে জায়গা পেয়েছেন।

এই তালিকারই আরেক নাম রমেশ কুমা’র। আইপিএলের টেবিলে যখন এই ব্যাটসম্যানের নাম উঠল, টিভি পর্দার সামনে বসে থাকা হাজারো দর্শক নিশ্চিত করেই মাথা চুলকেছেন।

তেমন কেউই যে শোনেননি এই খেলোয়াড়ের নাম! পেশাদার কোনো ম্যাচে খেলার অ’ভিজ্ঞতাই নেই রমেশের। চমকের মাত্রাটা বাড়ল আরও, যখন ২০ লাখ রুপি ভিত্তিমূল্যতেই এই তারকাকে দলে ভেড়ালো কলকাতা।

কিন্তু কে এই রমেশ কুমা’র? নিলামের পরেই জানা গেল কলকাতার টাকা খরচের কারণ। পাঞ্জাবের জালালাবাদ থেকে উঠে আসা ২৩ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার কলকাতা নাইট রাইডার্সের অলরাউন্ডার সুনীল নারাইনকে নিজের ‘আইডল’ মনে করেন।

তাঁর মতে, সুনীলের মতো অ্যাকশনে বল করেন তিনি, তবে বাঁ হাতে। বাঁহাতি এই স্পিনার বল দুদিকে ঘোরাতে পারেন। কাগজে-কলমে নাম রমেশ কুমা’র হলেও পাঞ্জাবের পাড়ার ক্রিকে’টে তাঁর পরিচিতি ‘নারাইন জালালাবাদিয়া’ নামে। মানে, জালালাবাদের নারাইন!

তবে শুধু বোলিংই নয়, নারাইনের মতো ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংও করতে পারেন এই অলরাউন্ডার। পাড়ার ক্রিকে’টে টেনিস বলে ১০ বলে ৫০ রান করার কৃতিত্বও আছে তাঁর। ছক্কা মা’রাটা খুব প্রিয় কাজ এই ২৩ বছর বয়সীর।

বাবা মুচির কাজ করেন, মা পাড়ায় পাড়ায় প্রসাধনসামগ্রী বিক্রি করে বেড়ান। ছেলে যেহেতু যেহেতু আইপিএলে সুযোগ পেয়েছে মা-বাবাকে কষ্টের সময় আর বেশিদিন কা’টাতে হবে না এটা বলে দেওয়াই যায়।

টেনিস বল দিয়ে খেলা টুর্নামেন্টগু’লোতে অংশ নিয়েই নিজের ভাগ্য বদলেছেন রমেশ। এসব ম্যাচগু’লোয় পাওয়া প্রাইজমানি দিয়ে শেষ করেছেন স্নাতক। পাঞ্জাব রাজ্য ক্যাম্পে ডাক পেয়েছিলেন টেনিস বলে নৈপুণ্য দেখিয়েই।

সেখানে দেখা হয় ভারতের হয়ে তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা অলরাউন্ডার গু’রকিরাত সিং মানের স’ঙ্গে। মানের পরামর্শেই মিনেরভা ক্রিকেট একাডেমির হয়ে খেলা শুরু করেন। সেখানেও নিজের জাত চিনিয়েছেন।

তাঁর খেলার ভিডিও ফুটেজ সেখান থেকে সংগ্রহ করে কলকাতা নাইট রাইডার্সের সহকারী কোচ অ’ভিষেক নায়ারের কাছে পাঠান গু’রকিরাত। পরে কলকাতা রমেশকে ট্রায়ালে ডেকে পাঠায়।

ট্রায়ালে কলকাতাকে সন্তুষ্ট করতে পেরেছিলেন নিশ্চয়ই, না হলে তাঁর পেছনে ২০ লাখ খরচ করা কেন!এখন রমেশের প্রমাণ করার পালা!

Leave a Comment