বাচ্চারা কথা শোনে না? কোন নিয়মই মানতে চায় না? সমাধান জানুন

শৈশব থেকে যেসব অভ্যাসে রপ্ত হয়ে ওঠা আপনার সন্তান, সেসবের রেশ থেকে যায় বড় হয়েও। অনেক অভিভাবক চান, শিশুকে ছোট থেকেই নিয়মানুবর্তী করে তুলতে। কিন্তু বয়সের ধর্ম মেনে শিশুরা খুব একটা নিয়মের ধার ধারে না। এর জন্য শাসনও কম জোটে না তাদের। কিন্তু কিছু কৌশল জানলে ধমক-মারধর না করে শিশুকে নিয়মানুবর্তী করে তোলা যায়।

কোন শিশুর পক্ষেই নিজে নিজে ঠিক ভুলের তফাৎ করা সম্ভব নয়। তাই ছোট থেকেই তাকে ঠিক ভুলের ফারাক করতে শেখান। কোন কাজ কখন করতে হয়, কোন কাজ পরে করলেও চলে এগুলো সম্পর্কে ধারণা তৈরি করে দিন ছোট থেকেই। কেবল কাজের সময় সম্পর্কে ধারণা তৈরি করাই নয়, শিশুকে বুঝতে দিন সময়ের কাজ সময়ে না করলে কী কী সমস্যা হতে পারে। সে সব সমস্যার সমাধান করে দিলেও শিশুকে বোঝান কেন প্রতিটি কাজ নিয়ম মেনে সময় অনুযায়ী করতে হয়। তা হলে ভবিষ্যতে কোন নিয়ম ভাঙার আগে শিশুও সচেতন থাকবে।

সন্তান কোন কাজ নিয়ম মেনে করলে তার প্রশংসা করুন, উৎসাহ দিন। শিশু তার অভিভাবকদের কাছ থেকে প্রশংসা পেতে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে। এতে সে পরবর্তীকালে আরো অনেক কাজই এমন দক্ষতায় করতে চায়। ফলে নিয়মানুবর্তী হওয়ার সঙ্গে তার দক্ষতা বাড়ে। মারধর বা শাসন একেবারেই নয়। বরং এতে ফল বিপরীত হতে পারে। অতিরিক্ত শাসনে শিশু মনে মনে হতাশ হয়ে পড়ে। তার চারপাশ সম্পর্কে খারাপ ধারণা গড়ে ওঠে।

আত্মবিশ্বাস তো হারায়ই, সঙ্গে নিজের অভিভাবকদের প্রতি এক ভীতির জন্ম হয় তার মনে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ভয় উদ্ধত হওয়ার দিকে ঠেলে দেয়। দিনে কতক্ষণ সময় দিচ্ছেন শিশুকে? তার যে কোনো ভালো গুণ বিকাশের ক্ষেত্রে এই দিকটি অত্যন্ত জরুরি। শিশুর স্কুল, বন্ধুবান্ধব, নানা ব্যস্ততা ইত্যাদি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকুন। দিনের মধ্যে কিছুটা সময় কেবল শিশুর জন্যই বরাদ্দ রাখুন।

আপনার সঙ্গে শিশুর সম্পর্ক যত বন্ধুত্বপূর্ণ হবে ততই সে অভিভাবকদের বাধ্য থাকবে এবং নতুন কিছু শিখতে তৎপর হবে। নিয়মানুবর্তী করে তুলতে গেলে ছোট থেকেই কিছু কিছু কাজের দায়িত্ব শিশুকে দিতে হবে। এমন কিছু কাজ সংসারও থাকে, যা একজন শিশু করে ফেলতে পারে অনায়াসে। তেমন কিছু সহজ ও হালকা কাজের দায়িত্ব তার ওপর দিন। তাতে সে একদিকে যেমন দায়িত্ববান হতে শিখবে, তার সঙ্গে সময়ের কাজ সময়ে করে ফেলতে সচেষ্ট থাকবে।

শিশুর সামনে কিন্তু তার অভিভাবকরাই সবচেয়ে বড় উদাহরণ। তাই নিজেরাও তার সামনে এমন কিছু করবেন না, যাতে শেখার নিয়ম ভাঙার অনুশীলন প্রকাশ্যে আসে। বরং সন্তানকেও বুঝতে দিন যে তার অভিভাবকরা যথেষ্ট নিয়মানুবর্তী। এই দৃষ্টান্ত সামনে এলে সে নিজেও এমন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে চাইবে নিজেকে।

Leave a Comment