Breaking News
Home / Life Style / ভ্রমন তথ্যঃ গন্তব্য কিশোরগঞ্জ হাওর

ভ্রমন তথ্যঃ গন্তব্য কিশোরগঞ্জ হাওর

হু হু করে একটা গাড়ি ফাঁকা রাস্তা ধরে ছুটে চলেছে। গন্তব্য, কিশোরগঞ্জ। পাশে অদ্ভুত হাসিখুশি কতগুলো ছেলে। এদের কাওকেই আমি চিনিনা ইফতি ভাই ছাড়া। আচ্ছা! এদের কারো মনে কোন কষ্ট নেই? নাকি এরাও আমার মতো অভিনয় করে চলেছে। কি জানি! এরা কি বুঝতে পারছে আমি এদের কাছে কেন এসেছি? পারছেনা বোধহয়।

হঠাৎ গাজিপুরের ধুসর কালো আকাশ গাছের সারির ফাঁক দিয়ে ডাকলো। গাড়িটার গ্লাস খোলা যায়না, ট্যুর টাই মাটি হবে৷ এবার আমি কি করে কথা বলবো আঁধার এর সাথে? ডাকছে তো আমায়…

– কেমন আছো ময়ী?
– ভালো আছি আঁধার।
– তুমি কাঁদছো কেন? কষ্ট হচ্ছে তোমার?
– উফ! আস্তে বলোতো৷ ছেলেগুলো টের পেলে ভীষন লজ্জায় পরবো আমি।
– শুনতে পাবেনা,বলো আমায়?
– আমি যে তোমাদেরকেও বলার অধিকার হারিয়েছি আঁধার। তুমিতো বলেছিলে আমাকে কতবার ফিরে যেতে!
– বাদ দাও। তুমি তোমার পাশের ছেলেগুলোকে দেখো, ওরা তোমার নতুন বন্ধু ময়ী, আমার সাথে পরেও কথা বলতে পারবে তো৷ ওদের সময় দাও… আমি আসি!

আঁধার চলে গেলো! একটা টি স্টলে গাড়িটা থামলো, অনন্যাটা তখন থেকে জ্বালাচ্ছে সিগারেট খাবে বলে। অনন্যা, আমার এক ছোট্ট আদরের বোন৷ নিজেকে সামলাতে পারবো কিনা জানিনা, আমি ওকে নিয়ে চলে এসেছি।ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। অচেনা ছেলেগুলোর মুখগুলো কিছুটা চেনা লাগছে। সোনিয়া আপু দুই সিটের মাঝে বসা নিয়ে সেই তখন থেকে মহা ক্ষেপে আছে। ওহ! আমি যার আদরের ছোট বোন তার বড় বোন, সোনিয়া। যাক গে, যা বলছিলাম, তার সেই সমস্যা মিটেছে। দুটো চিকনা মতো ছেলেকে সামনে বসানো হয়েছে। এর মাঝে একজন থেকে থেকে এডাল্ট জোকস বলে উঠছে আর আমি আর অনন্যা মনে মনে কটমট করছি।

গান,হাসি আর এডাল্ট জোকসের মাঝ দিয়ে গাড়িটা কিশোরগঞ্জ পৌঁছে গেলো।ততোক্ষণে জেনে গেছি এরা কে কতটা দুষ্ট। মন্দ না৷ দুটো ছেলে বাংলাদেশের টিশার্ট পরে এসেছে। ওদের খুব ভাল্লাগছে, বলতে পারছিনা। ধুর! হোটেলে নাকি উঠবে, কি বোরিং ট্যুর! হোটেলে বসতে আসছি নাকি, আমি জলের কাছে যাবো।

ইফতি ভাই আমাকে আর অনন্যাকে নিয়ে যাচ্ছে হোটেল এর রুম দেখিয়ে দিতে।

একটা সরু গলি ধরে ঢুকছি। এই যা! একটা ড্রামে লাথি লাগলো। কাঠের অতো উঁচু সিঁড়ি বেয়ে দারুন একটা এডভেঞ্চার কাজ করছিলো। অন্ধকার ঘুপচি মতো একটা ঘরে শাড়ি পরলাম আমরা তিন কন্যা। এই স্মৃতি আর যা হোক কোন ফাইভ স্টার হোটেল দিতে পারতোনা

আমরা ট্রলারের ছাদের উঠে বসলাম। ধুসর নীল এর বিভিন্ন রুপ আকাশটাকে এতো সুন্দর সাজিয়েছে। আমার জন্য বুঝি? হবে না ই বা কেন। সেই কবে থেকে আমি তাদের দেখতে চাচ্ছি। ট্রলারটা ছাড়লো, একটু একটু বাতাস বইতে শুরু করেছে।

একটা ছেলে নৌকার সামনের দিকটায় বসে আছে। ভীষণ হিংসে হচ্ছে৷ ওরা আমায় বসতে দিবে? যাই একটু বলি।

ছেলেটা বলার সঙ্গে সঙ্গে আমায় বসতে দিলো আর বললো পরে গেলে তারা কিছু জানেনা! খুব দেখিয়ে দিলাম একদম সামনে বসে। কি ভেবেছে, আমি কি ভীতু নাকি।

– ময়ী?
– জল তুমি এতদিনে এলে!
– তোমার ভেঙে পরার কষ্ট সহ্য হচ্ছিল না। কিন্তু কি করব বলো, সূর্যের তাপে আসবার জো ছিলো কই আমাদের।
– ঠিক আছে। এসেছো তো!
– ময়ী তুমি এতো সামনে বসোনা, পরে যাবে তো
– পরলে ওরা তুলবে!
– এত ভরসা? কে হয় ওরা তোমার
– বন্ধু হয়তো ওরা আমার! দেখোনা কেমন জ্বালাচ্ছে আমায়৷ আমার শাড়িতে দড়ি বেঁধেছে পাজি গুলো!

আমি আসি ময়ী! এবার আমার আর কোন চিন্তা নেই তোমায় নিয়ে।

কি বললো জল? আমি ওদের বন্ধু বললাম? এই অচেনা ছেলেগুলোকে কখন আমি মনের অজান্তে বন্ধু করে নিয়েছি টের পাইনি তো।

-আসি জল, মনটা খারাপ একটু। সবাই এলে। সে এলোনা আমার কাছে
– আসবে! তুমি আরেকটু অপেক্ষা করো ময়ী!

এরপর? সারাদিন কেটে গেলো। ভুলে গেলাম কত ভারী পাথর বেঁধে বাঁচবো বলে ঘর ছেড়েছি। আমি বাঁচতে শুরু করেছি। কারা বাঁচালো আমায়?! আমার বন্ধু রা। আমার আঁধার, জল,আকাশ আর আমার এই বন্ধু রা!

ঈশা খাঁয়ের বাড়িতে ঢুকলাম। তেমন সুন্দর কিছুনা। সামনের পুকুর আর রাস্তাটা ভীষণ সুন্দর। যা হোক ঢুকলাম ভেতরে। হঠাৎ এক ফোঁটা হয়ে সে জানান দিলো, সে এসেছে।

-তুমি এসেছো?
-তুমি ডাকলে আমি না এসে পারি ময়ী?

আমার সকল দুঃখ সুখের সাথী এসেছে আমায় ধুয়ে আমার নতুন জীবনের শুভকামনা জানাতে। আর হুশ থাকলোনা কি করছি। আমরা অনেক কাঁদলাম দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে। নাচলাম, গাইলাম।

এবার আমি আসি বর্ষণ। আমি আমার বাকী বন্ধুদের সাথে ফিরে যাই… স্বপ্ন দেখতে হবে তো৷ বলো?

যাও ময়ী। এরা তোমায় ঠিক আবার বাঁচতে শেখাবে, তখন আমি আবার আসবো তোমায় শুভকামনা জানাতে…

আমরা ফিরে চললাম, যান্ত্রিক জীবনে। ফয়সাল ভাই তার এডাল্ট জোকসেই আছেন, আর আমরা সেসব শুনে হেসে বাঁচিনা। কটমট করবো কি! ফিরে যাচ্ছি, কিন্তু উজ্জীবিত হয়ে। একদিনের তফাৎ এ কতগুলো ছেলে আমায় নাচতে,গাইতে, হাসতে বাধ্য করলো। আমি কি এতটাও চেয়েছিলাম এদের কাছে?

এই যা! আপুর ব্যাগে কচুরিপানার ফুলগুলো ছিলো কিনা দেখা হলোনা। ভাইটা কত যত্ন নিয়ে তুলে এনেছিলো!

ভাই এর কথায় মনে হলো,
একজনের ভরসাতেই অচেনা লোকদের সাথে পাড়ি জমিয়েছিলাম, যে আমাকে পাগলী বলে ডাকে। তাকে নিয়ে কিছু বলতে চাইনা৷ সে বুঝে নিবে সে সবার প্রিয়, তেমনি আমারো। বেশী আবেগে কথা গুলিয়ে যায়, না বলাই ভালো! ভালো থাকুক সে আর সারাদিন গান গাইতে থাকুক, হাসতে থাকুক আর পকপক করতে থাকুক।আমি আবার একজনের মিনু দি ও হয়ে গেছি। ট্যুর থেকে এসেই মিনু দি, মিনু দি ডেকে সারাক্ষণ তার ছবির নানান গল্প শুনিয়েই যাচ্ছে আগ্রহ ভরে, তার নাম পল্লব। মিনুদির ছোট্ট ভাই। আমাদের আরেকজন ভাই আছে যে আরোই ছোট তবে সবচেয়ে স্মার্ট পিচ্চি ভাই আমাদের.. আমরা সবাই যার ফ্যান, যে একদম ইমোশোনাল না… তার নাম নাঈম।

এরা আমার নতুন জীবনের প্রথম অধ্যায়। কি নাম দিব এই অধ্যায় এর আমি?

“ফিনিক্স পাখির বন্ধুরা”

প্রিয় বন্ধুরা,

আমি স্বপ্ন দেখতে এসেছিলাম। বাঁচার স্বপ্ন
তোমরা আমাকে দুহাত ভরিয়ে দিয়েছো, আমি তোমাদের সাথে পুরো দেশটা ঘোরার স্বপ্ন দেখি। আমি, তোমাদের সাথে গৃহত্যাগী হবার স্বপ্ন দেখি….

About pressroom

Check Also

বাড়ির টবেই আলু চাষের সহজ ও কার্যকরী উপায়

বাজারে আলু কিনতে গিয়ে তো হাতে আগুন লাগার জোগাড়। কোথাও চল্লিশ টাকা, আবার কোথাও পঞ্চাশ। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by keepvid themefull earn money