Breaking News
Home / Health News / শরীরকে রোগমুক্ত আর ত্বককে আকর্ষণীয় করতে থানকুনি পাতা!

শরীরকে রোগমুক্ত আর ত্বককে আকর্ষণীয় করতে থানকুনি পাতা!

এখনকার প্রজন্মের কাছে হয়তো এই শাকটি ভিনগ্রহের কোনও জীবের মতোই অচেনা। কিন্তু একটা কথা জেনে রাখুন বন্ধুরা। নিজের শরীর এবং ত্বককে যদি বাকিদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে চান, তাহলে প্রতিদিনের ডায়েটে থানকুনি পাতাকে যুক্ত করুন। সেই খ্রিষ্টপূর্ব ১৭ শতক থেকেই গত ২৭০০ বছর ধরে আমাদের দেশের পাশাপাশি আফ্রিকা, জাভা, সুমাত্রা, ফ্রান্স, শ্রীলঙ্কা এবং ফিলিপাইনের বাসিন্দারা এই শাকটি খেয়ে আসছে।

আর কেন খাবে নাই বা বলুন! একজিমা, সোরিয়াসিসের মতো জটিল ত্বকের রোগ সারিয়ে তোলার পাশাপাশি একাধিক শারীরিক সমস্যার প্রকোপ কমাতে থানকুনির কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। সেই সঙ্গে মেদ ঝরাতে এবং ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও এই শাকটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

প্রসঙ্গত, একটা বিষয় জানলে আবাক হয়ে যাবেন! ওয়াল্ড লাইফ ফটোগ্রাফাররা লক্ষ করে দেখেছেন বাঘেরা কোনো চোট পেলেই ঠিক খুঁজে খুঁজে থানকুনি পাতা যেখানে আছে, সেখানে গিয়ে গা ঘষতে শুরু করে। কেন এমনটা করে জানেন? কারণ চোট আঘাত সারাতে এই পাতাটি দারুণ কাজে আসে। ভাববেন না এখানেই শেষ! একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে কেউ যদি নিয়মিত থানকুনি পাতা খেতে পারেন তাহলে একাধিক উপকার পাওয়া যায়। যেমন…

১. হজমক্ষমতার উন্নতি ঘটে
কখনো বেগুন-পেঁপে আর থানকুনি পাতা দিয়ে বানানো শুক্ত খেয়ে দেখেছেন? একদিন বানিয়ে খেয়ে দেখবেন। স্বাদগ্রন্থিগুলো নেচে তো উঠবেই। সেই সঙ্গে হজমক্ষমতারও উন্নতি হবে। কারণ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে থানকুনি পাতায় উপস্থিত একাধিক উপকারী উপাদান হজমে সহায়ক এসিডের ক্ষরণ যাতে ঠিকমতো হয় সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে না।

২. জ্বরের প্রকোপ কমে
সিজন চেঞ্জের সময় যারা প্রায়শই জ্বরের ধাক্কায় কাবু হয়ে পড়েন, তাদের তো থানকুনি পাতা খাওয়া মাস্ট! কারণ ভারতীয় আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে যে, জ্বরের সময় ১ চামচ থানকুনি এবং ১ চামচ শিউলি পাতার রস মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে অল্প সময়েই জ্বর সেরা যায়। সেই সঙ্গে শারীরিক দুর্বলতাও কমে।

৩. কৃমি এবং পেটের রোগের চিকিৎসা করে
অল্প পরিমাণ আম গাছের ছালের সঙ্গে ১টা আনারসের পাতা, হলুদের রস এবং পরিমাণমতো থানকুনি পাতা ভালো করে মিশিয়ে ভালো করে বেটে নিন। এই মিশ্রণটি নিয়মিত খেলে অল্প দিনেই যেকোনো ধরনের পেটের অসুখ সেরে যায়। সেই সঙ্গে কৃমির প্রকোপও কমে।

৪. গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হ্রাস পায়
কী বন্ধু অসময়ে খাওয়ার কারণে ফেঁসেছেন গ্যাস্ট্রিকের জালে? নো প্রবেলম! থানকুনি পাতা কিনে আনুন বাজার থেকে। তাহলেই দেখবেন সমস্যা একেবারে হাতের মধ্যে চলে আসবে। আসলে এ ক্ষেত্রে একটা ঘরোয়া চিকিৎসা দারুণ কাজে আসে। কী সেই চিকিৎসা? হাফ লিটার দুধে ২৫০ গ্রাম মিছরি এবং অল্প পরিমাণে থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে একটা মিশ্রণ তৈরি করে ফেলুন। তারপর সেই মিশ্রণ থেকে অল্প অল্প করে নিয়ে প্রতিদিন সকালে খাওয়া শুরু করুন। এমনটা এক সপ্তাহ করলেই দেখবেন উপকার মিলবে।

৫. কাশি কমাতে বিকল্প নেই
২ চামচ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে অল্প করে চিনি মিশিয়ে খেলে সঙ্গে সঙ্গে কাশি কমে যায়। আর যদি এক সপ্তাহ খেতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই। সে ক্ষেত্রে কাশির কোনো চিহ্নই থাকবে না।

৬. টক্সিক উপাদান শরীর থেকে বের করে দেয়
খাবার এবং আরও নানাভাবে সারা দিন ধরে একাধিক ক্ষতিকর টক্সিন আমাদের শরীরে, রক্তে প্রবেশ করে। এইসব বিষদের যদি সময় থাকতে থাকতে শরীর থেকে বের করে দেওয়া না যায়, তাহলে কিন্তু বেজায় বিপদ! আর এই কাজটি করে থাকে থানকুনি পাতা। কীভাবে করে? এ ক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে অল্প পরিমাণ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে ১ চামচ মধু মিশিয়ে খেলে রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদানগুলি বেরিয়ে যায়। ফলে একাধিক রোগ দূরে থাকতে বাধ্য হয়।

৭. বাচ্চাদের কথা বলার সমস্যা দূর করে
খেয়াল করে দেখবেন অনেক বাচ্চারাই মুখে কথা ফুটে যাওয়ার পরও স্পষ্ট করে বলতে পারেন না, এমনকি বয়স বাড়লেও কথার মধ্যে সেই অস্বচ্ছতা থেকে যায়। এমন ক্ষেত্রে থানকুনি পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। ১ চামচ থানকুনি পাতার রস গরম করে নিন প্রথমে। তারপর তা হালকা ঠাণ্ডা করে নিয়ে তাতে ২০-২৫ ফোঁটা মধু মিশিয়ে সেই মিশ্রণটি ঠাণ্ডা দুধের সঙ্গে খাওয়ানো শুরু করুন। দেখবেন উপকার হবে।

৮. আমাশয় দূর হয়
এ ক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিয়ম করে থানকুনি পাতা খেতে হবে। এমনটা টানা ৭ দিন যদি করতে পারেন, তাহলেই কেল্লাফতে! এই ধরনের সমস্যা কমাতে আরেকভাবেও থানকুনি পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। প্রথমে পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা বেটে নিন। তারপর সেই রসের সঙ্গে অল্প করে চিনি মেশান। এই মিশ্রণটি দুই চামচ করে, দিনে দুই বার খেলেই দেখবেন কষ্ট কমে যাবে।

৯. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়
থানকুনি পাতায় উপস্থিত অ্যামাইনো এসিড, বিটা ক্যারোটিন, ফ্যাটি এসিড এবং ফাইটোকেমিকেল ত্বকের অন্দরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি বলিরেখা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্কিনের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে কম বয়সে ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে।

About pressroom

Check Also

বাড়ির টবেই আলু চাষের সহজ ও কার্যকরী উপায়

বাজারে আলু কিনতে গিয়ে তো হাতে আগুন লাগার জোগাড়। কোথাও চল্লিশ টাকা, আবার কোথাও পঞ্চাশ। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by keepvid themefull earn money