বিসিএস ভাইভা অভিজ্ঞতা-৩: ইউএনও-ওসির সঙ্গে বিরোধে সমাধান কীভাবে

৪৪তম বিসিএসে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১১ হাজার ৭৩২ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষা চলবে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত। এখন প্রতিদিন ৯০ জন করে প্রার্থীর ভাইভা হচ্ছে। ৯ জুলাই থেকে প্রতিদিন ১৮০ জন প্রার্থীর ভাইভা নেবে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। প্রার্থীদের প্রস্তুতির সুবিধার জন্য আগে যাঁরা মৌখিক পরীক্ষা দিয়ে সফল হয়েছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা প্রথম আলোয় প্রকাশ করা হচ্ছে। নিয়মিত আয়োজনের আজ তৃতীয় পর্বে মৌখিক পরীক্ষার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন ৪৩তম বিসিএসে নিরীক্ষা ও হিসাব ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত নূর মোহাম্মদ।

৪৩তম বিসিএস নূর মোহাম্মদের তৃতীয় বিসিএস ভাইভা। এর আগে ৪০ এবং ৪১তম বিসিএসে ভাইভা দিয়ে ক্যাডার পাননি। গত বছরের ১৭ অক্টোবর ৪৩তম বিসিএসের ভাইভা দেন তিনি। এই বিসিএসে তাঁর প্রথম পছন্দ ছিল প্রশাসন ক্যাডার, দ্বিতীয় নিরীক্ষা ও হিসাব ক্যাডার। প্রায় ১০ মিনিটের মতো ভাইভা দেন।

নূর মোহাম্মদ বলেন, সাদামাটা একটা ভাইভা হয়েছে। কোনো বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর দেওয়ার সুযোগ পাইনি। আবার ভাইভা দিয়ে বের হয়ে খারাপ ভাইভা দিছি, এটাও মনে হয়নি। মনে হয়েছে একটা গড় মার্ক দিতে পারে। কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফলে পছন্দের নিরীক্ষা ও হিসাব ক্যাডার পেয়ে খুব খুশি হয়েছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ ও এমবিএ করেন নূর মোহাম্মদ। বর্তমানে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে কর্মরত আছেন। স্নাতকের বিষয় এবং বর্তমানে কি করছেন, ভাইভার শুরুতে তা জানতে চাওয়া হয়।

অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের উক্তি ‘কল্পনা জ্ঞানের চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ’—এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে বলা হয়। নূর মোহাম্মদ উত্তর দেওয়া শুরু করলে থামিয়ে অন্য প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়। আপনার কল্পনা কী? আগামী ১০ বছরে নিজেকে কীভাবে কল্পনা করেন? এর উত্তরে বলেন, ‘আমি এখানে নিয়োগ পেলে ১০ বছরের মধ্যে যেকোনো এলাকার ইউএনও হব। আর আমি যদি আমার বর্তমান চাকরিতে থাকি, তাহলে আমি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক হবো।’

আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের অবস্থান কেমন হবে? এর উত্তরে নূর মোহাম্মদ বলেন, আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হবে। সম্পূরক প্রশ্ন করা হয় উন্নত না মধ্যম আয়ের দেশ কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ? তিনি বলেন, অবশ্যই উন্নত দেশ গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা এখন কোনো অবস্থায় আছি, ২০২৬ সালে আমাদের স্ট্যাটাস কী হবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা একটি উন্নয়নশীল জাতি, আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে ইতিমধ্যে বেরিয়ে এসেছি। ২০২৬ সালে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে সেই মর্যাদা পাব।’

ভাইভার কিছু প্রশ্ন নূর মোহাম্মদকে ইংরেজিতে করা হয়, তিনি উত্তরও দেন ইংরেজিতে। কিছু প্রশ্ন বাংলায় করা হয়।

পোর্টফোলিও বিনিয়োগ কী? এর উদ্দেশ্য কী? পোর্টফোলিও বৈচিত্র্য কী? এসব প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পোর্টফোলিও বিনিয়োগ নিয়ে একটি গোল্ডের রুল রয়েছে, সেটি হলো সব ডিম এক ঝুড়িতে রাখবেন না। ঝুঁকি কমানোর জন্য এটি করা হয়। আর পোর্টফোলিও বৈচিত্র্য হলো বিভিন্ন আর্থিক সম্পদে আপনার বিনিয়োগকে ভাগ করতে।

ভাইভার শুরু থেকে এই অংশ পর্যন্ত নূর মোহাম্মদকে ইংরেজিতে প্রশ্ন করা হয়, তাই তিনি উত্তরও ইংরেজিতে দিয়েছিলেন। এরপর বাকি প্রশ্নগুলো বাংলায় করা হয়।

ইন্টারনেট ব্যবহারের সুফল এবং কুফল সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে নূর মোহাম্মদ বলেন, ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে সরকারি সেবায় গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সসহ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুবিধা নিতে পারছি৷ যেমন, ই-ফাইলিং, ই-জিপি ব্যবহারের ফলে অফিসের কাজের গতি বেড়ে গেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্প্রতি চালু করেছে সরকারি চাকরিজীবী ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, অডিটের কাজের জন্য অডিট ম্যানেজমেন্টে অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়। কুফল হলো শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাচ্ছে, মানুষের সময় নষ্ট হচ্ছে।

কোথাও আগুন লাগলে বা দুর্ঘটনা হলে এই যে মানুষ জড়ো হয়ে যায়, ভিডিও করে কিন্তু থামাতে যায় না, এটা কেন করে উত্তরণের উপায় বলেন। জবাবে নূর মোহাম্মদ বলেন, মানুষের মধ্যে ভাইরাল হওয়ার একটা প্রবণতা কাজ করে, মনে করে ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়াতে দিলে লাইক পাবে। উত্তরণের জন্য জনসচেতনতা বাড়াতে হবে, ডিজিটাল আইন যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে।

ইউএনও ও ওসির সঙ্গে বিরোধ হলে কীভাবে সমাধান করবেন? নূর মোহাম্মদ উত্তর দেন, আমি সমস্যাটি বোঝার চেষ্টা করে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে মীমাংসা করার চেষ্টা করব। যদি তাতে কাজ না হয় আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসক স্যারকে জানাব।