প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ: মৌখিক পরীক্ষা চলবে, অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিলের পর ফল

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোর (তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া) মৌখিক পরীক্ষা চলবে। ওই নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের অনুসন্ধান চলবে। অনুসন্ধান প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার পর মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা যাবে। হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে করা এক আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

সহকারী শিক্ষক পদে এটি তৃতীয় ধাপের নিয়োগ পরীক্ষা হিসেবে পরিচিত। এই নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে গণমাধ্যমে আসা অভিযোগ অনুসন্ধান চেয়ে করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২৮ মে হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোর (তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া) মৌখিক পরীক্ষাসহ নিয়োগপ্রক্রিয়া ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে গণমাধ্যমে আসা অভিযোগ অনুসন্ধান করে তিন মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ আদেশ স্থগিত চেয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষে আপিল বিভাগ আবেদন করে। চেম্বার আদালতে আবেদনের ওপর শুনানি হয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এম সাইফুল আলম ও আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ শুনানিতে ছিলেন। অন্যদিকে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক ও জহিরুল ইসলাম।

আদেশের পর অধিদপ্তরের আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ ও রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী লিটন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আদালত বলেছেন মৌলিক পরীক্ষা চলবে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের অনুসন্ধান চলবে। অনুসন্ধান কাজে প্রয়োজন হলে সিআইডিসহ অন্য সংস্থা সহায়তা দেবে। অনুসন্ধান প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করার পর মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা যাবে। হাইকোর্টের আদেশ সংশোধন করে চেম্বার আদালত এ আদেশ দিয়েছেন।’

এর আগে ২০২৩ সালের ১৪ জুন এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। গত ২৯ মার্চ এই দুই বিভাগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে তৃতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের লিখিত (এমসিকিউ) পরীক্ষার ফল গত ২১ এপ্রিল প্রকাশ করা হয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার তৃতীয় ধাপের (৩টি পার্বত্য জেলা ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ২১টি জেলা) লিখিত পরীক্ষার সংশোধিত ফল পরদিন প্রকাশ করা হয়। চলতি মাসের ৯ তারিখ থেকে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়।

এদিকে ‘মাদারীপুরে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ঢাকায় সমাধান: প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা (তৃতীয় ধাপ)’ শিরোনামে গত ২৫ এপ্রিল একটি দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হয়। এই প্রতিবেদনটি যুক্ত করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ অনুসন্ধানের নির্দেশনা চেয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রত্যাশী জুয়েল রতন দাশসহ ১৬ প্রার্থী ২৩ মে রিটটি করেন।