ষষ্ঠ শ্রেণিতে ফেল, অনুশোচনা-বিড়ম্বনা কাটিয়ে আইএএস অফিসার রিয়া

ছাত্রাবস্থায় প্রতিটি শিক্ষার্থীদের জীবনেরই একটা ভীতি। সে যেন পরীক্ষায় কোনোভাবে ফেল না করে। পরীক্ষার ফলের কাগজে একটি লাল কালির দাগ এক জন শিক্ষার্থীকে হতাশার দিকে ঠেলে দিতে পারে। কেউ কেউ এই পরিস্থিতিকে সামলে নিয়ে নতুন উদ্যমে পড়াশোনা শুরু করেন। অনেকে আবার ডুবে যায় হতাশার অন্ধকারে।

পরীক্ষায় ফেল করে শিক্ষকদের বঞ্চনা এবং সহপাঠীদের কটূক্তির মুখেও পড়তে হয়। অনেক সময় পরিস্থিতি এতটাই নেতিবাচক হয়ে পড়ে যে, বহু শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়। তবে এই সাময়িক ব্যর্থতা পেরিয়ে নতুন করে পাখা মেলে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ারও একাধিক নিদর্শন রয়েছে। এ রকমই এক উদাহরণ রুক্মিণী রিয়ার।

ভারতের পঞ্জাবের গুরুদাসপুরের বাসিন্দা রুক্মিণী বর্তমানে ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস (আইএএস) অফিসার। তবে স্কুলে পড়ার সময় খুব একটা মেধাবী ছাত্রী ছিলেন না রুক্মিণী। এমনকি ষষ্ঠ শ্রেণিতে ফেলও করেন তিনি। ফেল করার পর ভেঙে পড়েছিলেন রুক্মিণী।

অনুশোচনা এবং বিড়ম্বনা এতটাই ঘিরে ধরেছিল যে, স্কুলে যেতেও ভয় পেতেন তিনি। তবে পরবর্তী সময়ে এই ভয়কেই অনুপ্রেরণায় রূপান্তর করেন রুক্মিণী। ভাল ফল করার আশায় পড়াশুনোয় মন দেন তিনি।

রুক্মিণী হিমাচল প্রদেশের ডালহৌসির সেক্রেড হার্ট স্কুলে দ্বাদশ শ্রেণির পড়াশুনো শেষ করেন। এরপর স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে অমৃতসরের গুরু নানক দেব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিদ্যা নিয়ে স্নাতক হন। পরে মুম্বইয়ের টাটা ইন্সটিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেস থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন এবং পড়াশুনোয় ভাল ফল করায় স্বর্ণপদকও পান।

পড়াশোনা শেষ করে রুক্মিণী একটি অসরকারি সংস্থায় (এনজিও) কাজ শুরু করেন। তখনই তাঁর মাথায় সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার বিষয়টি আসে। তবে কোচিং ক্লাসের উপর নির্ভর করে নয়, নিজে পড়াশোনা করেই নিজের লক্ষ্যে পৌঁছতে চেয়েছিলেন তিনি।

কঠোর পরিশ্রমের কারণেই ২০২১ সালে রুক্মিণী প্রথম বারের চেষ্টাতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সারা ভারতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি নিতে রুক্মিণী প্রতি দিন বেশ কিছু পত্রিকা পড়তেন। কয়েকটি মহড়া পরীক্ষাও দিয়েছিলেন তিনি। এর পরই রুক্মিণী সাফল্যের দোড়গোড়ায় পৌঁছন। আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। [সূত্র: আনন্দবাজার]

Leave a Comment