বিনামূল্যের বই চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক!

সারা দেশে যেখানে শতকরা ৩০ থেকে ৪০ ভাগ বইয়ের সংকট রয়েছে। এমন সঙ্কটপূর্ণ অবস্থায় চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত অসত্য তথ্য দিয়ে বই নেওয়ার অভিযোগ উঠছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে। ইংরেজি নববর্ষের প্রথমদিন দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনা মুল্যের বই বিতরণ উৎসব পালিত হচ্ছে। কিন্তু কিছু অসাধু প্রধান শিক্ষক তাদের চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি বই সংগ্রহ করে থাকেন। যদি এই অসাধু পন্থায় অতিরিক্ত বই সরবরাহ রোধ করা যায় তবে অনেকাংশে ঘাটতির পরিমাণ লাঘব করা সম্ভব বলে মনে করেন সচেতন নাগরিক মহল।

বছরের প্রথম দিনে সারাদেশের ন্যায় ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ৩৯টি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই বিতরণ করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত চাহিদা দেখিয়ে বেশি বই সংগ্রহের তথ্য পাওয়া গেছে উপজেলার শ্রীফলতোলা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিদ্যালয়ে। শ্রেণীভিত্তিক শিক্ষার্থীর তালিকা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে সরবরাহ করে সে মোতাবেক বই নেওয়ার নিয়ম থাকলেও শ্রীফলতোলা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিম তার চাহিদার তুলনায় প্রায় দ্বিগুন বই সংগ্রহ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই শিক্ষার্থীর তুলনায় অতিরিক্ত বই সংগ্রহ করে থাকেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

শিক্ষার্থী সংখ্যার অতিরিক্ত সংগৃহিত বই ইতিপূর্বে কেজি দরে বিক্রিসহ নিয়ম বহির্ভূত পন্থায় বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করেছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন।

প্রয়োজনের অতিরিক্ত সংগৃহিত বই কোথায় কি কাজে ব্যবহার করেছেন এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিমের নিকট জানতে চাইলে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, আমাদের এখানে আস্তে আস্তে ছাত্র ভর্তি হয়; পরে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের সে বইগুলি তাদের দিয়ে থাকি। আবার বই যদি অন্য কোনো স্কুলের লাগে তবে সেখানেও এই বই পাঠিয়ে দেন বলে তিনি দাবি করেন। তবে, কেজি দরে বই বিক্রির অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

শ্রীফলতোলা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে এ বছর ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম শ্রেণীর ৯৭ জন শিক্ষার্থী বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নিলেও তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে বই সংগ্রহ করেছেন ১৫০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে। ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ৪০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও তিনি ৬০ জনের বই সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া অবশিষ্ঠ ৭ম, ৮ম ও ৯ম শ্রেণী পর্যন্ত তিনি যথাক্রমে ৫০ সেট করে সর্বমোট ২১০ জন ছাত্রের বই সংগ্রহ করেছেন বলে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ৭৩ জন ছাত্রের ভূয়া তালিকা দাখিল করে অতিরিক্ত ৭৩ সেট বই সংগ্রহ করেছেন। এটি সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত।

অন্যদিকে পুরাতন বই বিদ্যালয়ে সুনির্দিষ্টভাবে গচ্ছিত রাখার বিধান থাকলেও সরেজমিনে যেয়ে বিদ্যালয়ে সন্তোষজনক পরিমাণ পুরাতন বইয়ের মজুদ চোখে পড়েনি। তবে গত বছরের পুরাতন কিছু বইয়ের সাথে সেই বছরের অব্যবহৃত নতুন বইও স্টোর রুমে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

শিক্ষার্থীর তুলনায় অতিরিক্ত চাহিদা দেখিয়ে শ্রীফলতোলা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রায় দ্বিগুন পরিমাণ বই সংগ্রহের বিষয়ে হরিনাকুণ্ডু উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল বারী ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, এমন অভিযোগ পেলে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment